যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মধ্যভাগে প্রবাহিত হয়েছে ভৈরব নদের শাখা বুড়ি ভৈরব। নদের পূর্ব পাশে ছয়টি আর পশ্চিমে আটটি গ্রাম। নদের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) অনেকবার আবেদন করা হলেও সেতু নির্মিত হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদের ওপর তৈরি সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে ১০ গ্রামের মানুষ। ২০০ ফুট সেতুর অভাবে কৃষিপণ্য পরিবহনে স্থানীয়দের ঘুরে যেতে হয় ১২ কিলোমিটার বাড়তি পথ।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুড়ি ভৈরব নদের ওপর নিজেদের উদ্যোগে প্রায় দুই দশক আগে একটি সাঁকো তৈরি করে। দুই বছর পর পর নতুন করে সাঁকোটি নির্মাণ করতে হয়। সাঁকোটি তারা নিজেদের উদ্যোগে সংস্কারও করছে। নদের পূর্ব পাশে কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর, মথুরাপুর, ভাগু, দিয়াপাড়া, ভগবতিলতা, ঘোপ, নরসিংহকাটি ও নিমতলী। আর পশ্চিমে রায়মানিক, কচুয়া, আবাদ কচুয়া, পুড়া কচুয়া ও সাতঘরিয়া। এ ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মধ্যে ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সাঁকোটি ব্যবহার করে।
মুনসেফপুরের বাসিন্দা অশোক কুমার দত্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা কেউ শোনে না। বর্ষার সময় সাঁকোটি পার হওয়া অনেক কষ্টের। নদ ভরা পানি থাকে। তখন সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যায়। বহু বছর ধরে শুনছি, এখানে সেতু হবে। এমপি-চেয়ারম্যানরা কতবার এসেছেন, কিন্তু সেতু আর হলো না। হবে কিনা, তাও জানি না।’
শুভরঞ্জন দত্ত নামে এক জেলে বলেন, ‘বছরের পর বছর এতগুলো গ্রামের মানুষ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। রাতের বেলায় টর্চ দিয়ে পা টিপে টিপে চলাচল করতে হয়। সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’
কচুয়া গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, ‘নদের আশপাশের গ্রামগুলো কৃষিনির্ভর। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের সঠিক দাম পাওয়া যায় না। একটি সেতুর কারণে ওইসব গ্রামে তেমন কোনো উন্নয়নও হয়নি। গ্রামগুলো এখনো অবহেলিত। কোনো রকমে যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে সাঁকো তৈরি করে নিয়েছে। নদের ওপারে আমাদের অনেক জমি আছে, ফসল আনতে হলে ১২ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। এতে সময় এবং পরিবহন ব্যয় দুটিই বেড়ে যায়।’
সরজমিন দেখা গেছে, বাঁশের তৈরি সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। নদের পশ্চিম পাশে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় পূর্ব পাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া আসা করছে। সাঁকো থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছে বিভিন্ন সময়। এছাড়া মুনসেফপুর নদের গা-ঘেঁষে একটি মন্দির রয়েছে। সারা দিনই পূজা-অর্চনা করতে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের করতে হয় যাতায়াত।’
নদের দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে দেলোয়ার হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কেউ আমাদের রাস্তা এবং সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছে না। আমরা তো সরকার বা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভোট দিয়েছি। তারা কেন আমাদের দিকে তাকায় না। আমরা বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছি।’
এ বিষয়ে কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নদের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ ও এলজিইডিতে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না। নদের দুই পাড়ের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সাঁকো নিয়ে সমস্যায় আছে।’
এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই স্থানে সেতু নির্মাণের বিষয়টি আমাদের তালিকায় নেই। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’