গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে এবং ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে তাদের মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলে, তাদের মতে সেটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু এটি যদি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হয়, তবে এ দেশের মানুষ তাদেরকে গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বিরোধী দল নিজেরাই বলছে, ১১ দলের দাবি না মানলে বোমাবাজি ও ককটেলবাজি বন্ধ হবে না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত অপশক্তিকে আমরা রাজপথেই মোকাবেলা করব।’
গতকাল সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদাখালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে, তারা ওপারে বসে ককটেল মারা, গাড়িতে আগুন দেয়া এবং ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বর্তমান বিরোধী দলের কথাবার্তা ও অপকর্মের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।’
দেশের, গণতন্ত্রের এবং তারেক রহমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। রাজপথ থেকে আন্দোলন করতে করতে আজ আমরা এখানে এসেছি। অতীতে রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করেছি এবং আগামী দিনেও এ অপশক্তিকে আমরা মোকাবেলা করব।’
সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিন বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তারা ফ্যাসিস্ট কায়দায় ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের মতো সখ্য গড়ে তুলেছে। আগামী পাঁচ বছর বর্তমান সরকারকে ঠিকমতো কাজ করতে না দেয়ার মানসিকতা তাদের প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে অনেক সুন্দর কথা বলে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দও বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সংসদের বাইরে গিয়ে তারা ১৯৭১ সালের মতো রূপ ধারণ করে। বাইরে গিয়ে তারা শিষ্টাচারবহির্ভূত, অসভ্য ও অশালীন ভাষায় কথা বলে, যা কোনো সভ্য সমাজে, পরিবারের মধ্যে আলোচনা করার মতো নয়।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদউদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি এবং সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ।