জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অর্থনীতি ও অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সুলতানা জেসমিন। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আয়োজনে এসব কথা বলেন তিনি।
সুলতানা জেসমিন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষ আচ্ছাদন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার স্থানীয় জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়নে শুধু বৃক্ষরোপণের সংখ্যা বিবেচনা করলে চলবে না; গাছের টিকে থাকা, পরিচর্যা ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ট্রি মনিটরিং অ্যাপের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও গাছের বৃদ্ধির তথ্য সংরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সুলতানা জেসমিন জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি পিরোজপুরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহতা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। ওই সময় উপড়ে পড়া গাছ তার বাড়ির ওপরও আঘাত হানে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলায় জলবায়ুগত বিষয়গুলোর পাশাপাশি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নগর পরিকল্পনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।