ফজলুর রহমানের মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এতে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কয়েকজন নির্বাচিত সদস্য ও সম্পাদক।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মাস্টারদা সূর্য সেন হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কীভাবে অবদান রেখেছিল তা আমরা সবাই জানি। তারা মেধার ভিত্তিতে এখানে চান্স পেয়েছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিএনপির কাছে জানতে চাই, ফজলুর রহমানের বক্তব্য ব্যক্তিগত নাকি দলীয়? যদি দলীয় না হয়, তবে বিএনপিকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন বলেন, ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর আমরা নিজেদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী পরিচয় দিতেও ভয় পেতাম। আমাদের জামায়াত-শিবির বলা হতো। কেন সাদা পাঞ্জাবি, টুপি দেখে ভয় পাবে? এগুলো স্বৈরশাসকের ভয় ছিল।

তিনি আরো বলেন, ঢাবিতে যেমন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করবে, তেমনি ইংলিশ ও বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করবে। সবার এক পরিচয়, ‘শিক্ষার্থী’। যারা আলেমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে চাইবে, তাদের ছাত্রসমাজ প্রতিহত করবে। বিএনপি যদি মনে করে এটি ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত বক্তব্য, তবে সেটি পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতায় এখানে এসেছে। ফজলুর রহমাননের এ বক্তব্যগুলো অনিচ্ছাকৃত নয়। শুধু তিনিই নন, রুমিন ফারহানাও প্রায়ই এমন মন্তব্য করেন। মূলত গুপ্ত আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য তারা এ ধরনের মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থী মু. সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন নিশ্চিত করেছি। এখন আওয়ামী লীগের কালচারাল ফ্যাসিজমের পতন ঘটাতে হবে।

আরও