ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত রোববার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে মরদেহ দুটি উদ্ধারের পর সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে গত ছয় মাসে ওই ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন সম্রাট।
এ ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রোববার রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। গতকাল তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দুপুরে সাভার থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। পুলিশ বলছে, সম্রাট দেখতে ভবঘুরে, কিন্তু সিরিয়াল কিলার। এর আগে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ড এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে বৃদ্ধকে হত্যার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাতুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ ও পৌরসভার সহায়তায় কমিউনিটি সেন্টারটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি সম্প্রতি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পুলিশের টহল টিম ওই স্থানটিতে নজরদারি করছিল। সর্বশেষ শনিবার রাতেও পুলিশের একটি দল কমিউনিটি সেন্টারটিতে গিয়ে সেখানে যারা অবস্থান করছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানে সম্রাটসহ আরেক নারীকে দেখতে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়া অবস্থায় দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে মশিউর রহমান সম্রাটের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখা গেছে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘রোববার উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যজনের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর বলে ধারণা করলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
সাভার মডেল থানা পুলিশের তথ্য বলছে, গত বছর ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৯ আগস্ট বিকালে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো এবং দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ১১ অক্টোবর বিকালে ওই ভবনের একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর একই তলা থেকে আগুনে পোড়া অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩৫) এবং রোববার একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা পুরুষ (২৫) ও অজ্ঞাতনামা এক শিশুর (১৩) আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।