জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলকে রাষ্ট্রপতি

কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে

সাক্ষাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষা, সিলেবাস পরিবর্তন ও সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন উপাচার্য।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশে-বিদেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা উপযোগী করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম প্রস্তুত করতে হবে।’ গতকাল দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান। খবর বাসস।

সাক্ষাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষা, সিলেবাস পরিবর্তন ও সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন উপাচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার উন্নয়নে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার বৃদ্ধি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি উন্নত বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, সহযোগী স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি ও উচ্চতর শিক্ষা এবং আইসিটি বিষয়ে ছয় মাস এবং এক বছরের স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে উপাচার্যকে আশ্বস্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।

কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গতকাল বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। রাষ্ট্রপতি এ সময় উপকূলীয় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক, চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে কোস্টগার্ডকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’ তিনি এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে কোস্টগার্ডকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন প্যাট্রোলবোট ও আধুনিক রেসকিউ হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং এভিয়েশন উইং স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক। রাষ্ট্রপতি তাকে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গণতন্ত্র সুসংহত করতে কর আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান: পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে কর আইনজীবীসহ দেশের সব শ্রেণী-পেশার নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আজকাল সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রত্যেক মানুষকে এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে।’

গতকাল বঙ্গভবনে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যাক্স ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে দেশ পুনরায় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাকে রক্ষা করা। ব্যক্তিনির্ভর শাসন কাঠামো থেকে সরে গিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্বাচিত সরকারকে সময় দিতে হবে।’

জুলাই শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল শহীদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে পরিবারের সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তারা শহীদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

এ সময় সদস্যরা গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহীদের নামখচিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।’

তিনি অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও চিরশান্তি কামনা করেন।

আরও