লক্ষ্মীপুরে এখনো ৯০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি

বৃষ্টি কমলেও লক্ষ্মীপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনো পানিবন্দি জেলার ৯০ শতাংশ মানুষ।

বৃষ্টি কমলেও লক্ষ্মীপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনো পানিবন্দি জেলার ৯০ শতাংশ মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে কয়েক হাজার পরিবার আশ্রয় কেন্দ্র বা অন্য কোথাও ঠঁাই না পেয়ে নিজ বাড়িতে পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। আবার কেউ কেউ চাঁদপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ও বাঁধের পাশে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই ঘরের মালপত্র ও গবাদিপশু চুরি হওয়ার ভয়ে যাচ্ছে না আশ্রয় কেন্দ্রে।

শহরের পুলিশ লাইনসের সামনে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কে পাশাপাশি অস্থায়ী দুটি ঘরে বসবাস করছেন আবুল কালাম ও আবুল কাশেম। তারা জানান, তাদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে আছে। প্রথম দিকে ঘরে বসবাস করলেও পানি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আর থাকতে পারেননি। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে সড়কের পাশে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন।

রাস্তার পাশে পরিবার নিয়ে বসবাস করা আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০টি পরিবার ঘর ছেড়ে রাস্তার পাশে বসবাস করছি। দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের ঘর থেকে পানি নামছে না। শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকতে পারছি না। ঘরের মালপত্র চুরির ভয়ও রয়েছে। তাই দূরে কোথাও না গিয়ে বাড়ির পাশে সড়কে অস্থায়ী ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলার জন্য ২ লাখ টাকা করে দেয়া হয়। জেলায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় অবস্থান করছে ৩০ হাজার মানুষ। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’

জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, লক্ষ্মীপুরে ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। এ পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৩০ হাজার মানুষ। বন্যাদুর্গতদের জন্য ৭০০ টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর আগে ৫০৯ টন চাল ও ১৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ও গো-খাদ্যের জন্য আরো লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকার জন্য এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরো ৩০ লাখ টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

আরও