চেইন ডোজার, যা ক্রলার বুলডোজার নামেই বেশি পরিচিত। দেশে বিভিন্ন কাজে চেইন ডোজারের ব্যবহারও রয়েছে। এ ধরনের দুটি বুলডোজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তা। এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও সম্প্রতি চীন সফরের অনুমোদন পেয়েছেন আরো চার সরকারি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রেও ভ্রমণের ব্যয় বহন করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেড। ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ভ্রমণের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয় গত ৬ সেপ্টেম্বর। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বরকত হায়াত, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলম এবং ডিএনসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে পাঁচদিনের চীন ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়।
সরকারি এ চার কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা দুটি চেইন ডোজার (বুলডোজার) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলমকে এ ভ্রমণ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শোনার পর ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে সরঞ্জাম সরবরাহ করে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সরবরাহকারী এ প্রতিষ্ঠানের অর্থে গত বছরের নভেম্বরে হুইল ডোজার পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা পরিদর্শনের অনুমোদন পেয়েছিলেন তিন সরকারি কর্মচারী। তারা ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদ ও ডেভেলপমেন্ট অব রোড অ্যান্ড ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উইথ সিটিজেন সার্ভিস অব ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রকল্পের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি চেইন ডোজার কেনার আগে অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স ট্রেনিংয়ের জন্য চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তিন কর্মকর্তা। তাদের ভ্রমণসংক্রান্ত সব ধরনের ব্যয় বহন করেছিল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সিনোওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল (সাংহাই) কোম্পানি লিমিটেড ও এইচটিএমএস।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৯ কোটি টাকা। এজন্য একটি ডিসচার্জিং সরঞ্জামের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম, প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক ও মো. শামীম আনোয়ার। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেয়া হয়। আদেশে তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা এবং সব ধরনের ব্যয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেড বহন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে মনোনীত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিদেশ ভ্রমণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেডের অর্থায়ন করার কারণ জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট ডিসচার্জিং ইকুইপমেন্টের সাপ্লায়ার। টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী ইকুইপমেন্টটির অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় সাপ্লায়ারকেই বহন করতে হবে। ডোনার অর্থায়িত এ প্রকল্পে ইকুইপমেন্ট কেনার অর্থ ডোনার দিলেও অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স-সংক্রান্ত এ ব্যয়ের জন্য আলাদা কোনো অর্থ সরকারকে দিতে হবে না। টার্মস অব রেফারেন্সেই এটি সাপ্লায়ারের নিজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। ফলে কর্মকর্তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কান্ট্রিতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার খরচও সাপ্লায়ারকে বহন করার কথা।’
জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ছোট আকারের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি (সিডিআরএসএসডব্লিউআরএমপি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইফাদ ও নেদারল্যান্ডস সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরের জুলাইয়ে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমোদন পেয়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডির ছয় কর্মকর্তা। তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অর্থায়ন করেছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবীর আহমেদ।
সরকারি কর্মচারীদের যথেচ্ছ বিদেশ ভ্রমণের লাগাম টানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন দফায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রথম নির্দেশনা জারি করা হয়। অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া যাবে না বলেও তখন জানানো হয়। আর সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহারের কথাও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়। মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীন অধিদপ্তর বা সংস্থাপ্রধানদের একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হয়। কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে কেবল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর বিষয়ে বিবেচনা করতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়।
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ আবারো পরিপত্র জারি করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সেখানে বলা হয়, ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে। জরুরি কারণ ছাড়া উপদেষ্টা বা জ্যেষ্ঠ সচিব কিংবা সচিব, একান্ত সচিব অথবা সহকারী একান্ত সচিবদের সহযাত্রী হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করতেও বলা হয়। আরো বলা হয়, সরকারি বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাদের স্ত্রী কিংবা স্বামী অথবা সন্তানদের সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। সে বছরের ২১ অক্টোবর বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত আরেকটি নির্দেশনা জারি হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণীর পরিবর্তে সুলভ শ্রেণী (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়। এরপর ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত বছর মোবাইল টয়লেট, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের যন্ত্রপাতি, ট্রেইলার, চেইন ডোজার, স্ক্র্যাপার ব্রিজ ক্রয়সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও বিভিন্ন টেস্টের নামে অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। তাছাড়া হুইল ডোজার, থ্রি হুইল স্ট্যাটিক রোড রোলার, ল্যান্ডফিল কমপ্যাক্টর ভেহিকল, ওভারপাস-পিওটি বিয়ারিং-সংক্রান্ত পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও কারিগরি সেশনে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছিলেন কিছু কর্মকর্তা। তাদের বেশির ভাগেরই ভ্রমণ ব্যয় বহন করেছিল ঠিকাদার কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। সে সময় এ বিষয়ে বণিক বার্তায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার সে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিয়ে এ ধরনের সফর করতেন। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থে এসব ভ্রমণ করিয়ে থাকে। ফলে এসব ভ্রমণ বিধিসম্মত না। কেননা ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ব্যয়ে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। নিম্নমানের পণ্য দেয়া, কাজের গুণগত মান কমানোর মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোম্পানির টাকায় বিদেশ ঘুরে আসার পর সেই কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ধরনের বিদেশ সফর শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্দেশের বরখেলাপ নয়, বরং পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অযাচিত আনুগত্য, অনৈতিক ও লোভাতুর ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগের উদাহরণ। এ ধরনের অনুকম্পা গ্রহণ করা সরকার ও দেশের জন্য মানহানিকর। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভেন্ডরের প্রতি অসম্মানজনক অনুরাগের বশবর্তী হওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, যা সরকারি ক্রয়নীতি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিযোগ্য অনিয়ম।’
চলতি বছরের ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশী প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশী সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো দেশের অর্থায়নে মাস্টার্স, পিএইচডি, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ কিংবা বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) এবং ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্টের (এফএটি) ক্ষেত্রে কেবল জটিল বা বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ সফর বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনার ব্যত্যয়ের পাশাপাশি ঠিকাদার, উৎপাদক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টিকে ‘অনৈতিক ও স্বার্থগত সংঘাত’ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথম বিষয় হচ্ছে সরবরাহকারী এখানে অর্থায়ন করছে। এর মানে হলো সে এখানে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলাই উচিত। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের ভ্রমণের আদেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।’
বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।