এ নিয়ে জেলায় শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নজরদারি ছিল না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অভিভাবকদেরও পর্যাপ্ত তদারকি ও সম্পৃক্ততার ঘাটতি ছিল। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ে। তবে শিক্ষকরা ফল বিপর্যয়ের পেছনে এমপিওসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকাকেও দায়ী করেন।
শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয় দুটি হলো বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরাম হাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় দুটির অবকাঠামো, শিক্ষার পরিবেশসহ নানা সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং শ্রেণী শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে এসএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় হয়েছে। তবে কর্মরত শিক্ষকদের দাবি, এমপিওভুক্ত না থাকায় ছাত্রী ভর্তিতে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয় দুটির ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। মানসম্মত পাঠদানের অভাব, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকস্বল্পতাকে এ বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে বলরাম হাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনতাজুল হক জানান, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে তিনি নিজেসহ আটজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ে ছয়টি কক্ষসহ সেমিপাকা টিনশেড ঘর রয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চারজন পাস করে। ২০২৫ সালে দুজন অংশ নিয়ে একজন পাস করে। চলতি বছর একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সে পাস করতে পারেনি।
কেন পাস করতে পারেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমপিওসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এ বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তিতে অভিভাবকদের অনাগ্রহ রয়েছে।’ তিনি ফল বিপর্যয়ের জন্য এমপিও সুবিধা না থাকাকেও দায়ী করেন।
এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপনে তিনজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল হক বলেন, ‘কোনো বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফল বিপর্যয়ের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়মিত পাঠদান, স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ না থাকা, এমপিও সুবিধা না থাকায় মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি ও অবকাঠামোগত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে বিদ্যালয় দুটিতে কেউ পাস করতে পারেনি। এছাড়া সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকাও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যালয় দুটির পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’