গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনের পর জব্দ প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে জব্দ বালু নিলামে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। নিলামের জন্য নির্ধারিত বালুর বড় অংশ আগেই সরিয়ে নেয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গতকাল দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। নিলামের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বালুর অধিকাংশই আগেই লুট করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদদীন সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন এবং তা বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখা হয়। জব্দ করা বালুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অধিকাংশ বালু সরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রির উপযোগী না থাকায় প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
জব্দ বালু বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হলেও দীর্ঘদিন সংরক্ষণে অবহেলার কারণে তা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে বালু নিলামে বিক্রির জন্য মাইকিং করা হলে নির্ধারিত সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে দলটি সেখানে গিয়ে দেখে, নিলামের আগেই বালুর বড় অংশ উধাও হয়ে গেছে। পরে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন জব্দ করা বালু আমার জিম্মায় রেখেছিল। এলাকাবাসীর অসহযোগিতার কারণে তা রক্ষা করতে পারিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলাম। জব্দকৃত বালু নিলামের প্রস্তুতি নেয়া হলেও বেশিরভাগ অংশ সরিয়ে নেয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।’
নিলামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি আগেই এসব বালু গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘জব্দ করা বালু লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া বালু উদ্ধারের চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’