সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে গতকাল সকালে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এ কথা বলেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা—এ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে গতকাল সকালে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল আলম সরকার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ) থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে একটি দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও লজিস্টিক সরবরাহে কাজ চলছে।’

ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলা পুলিশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কেবল প্রচলিত অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং পুলিশি সেবা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় নতুন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার নির্দেশনা, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাত দুষ্টতা ও পেশি শক্তির পরিবর্তে পেশাদারত্ব, দক্ষতা আর মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আপনারা আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, আপনারা সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।’

এ সময় মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেবাপ্রত্যাশী সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সেবাদানে পুলিশকে হতে হবে আরো আন্তরিক। সব প্রকার ভয়-ভীতি, পক্ষপাতিত্বকে উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে।’

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া এবং নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এ ব্যাচের সদস্যরা দেশসেবার মহান পেশায় যোগ দিয়েছেন।’ নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রকার বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা না করার জন্য তিনি তাদের নির্দেশ দেন। পুলিশের পোশাক ও অর্পিত দায়িত্বকে কেবল সাধারণ চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

আরও