সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে: নুরুল হক

শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যমুখী, যার অর্ধেকের বেশি যায় সৌদিতে। যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে লোক পাঠানো কিছুটা কমলেও তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা করছি

সৌদি আরবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে— এমনটা বললেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

তবে সৌদি আরব নিজেই এখন দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে সে আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশী হতাহতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমাদের রিয়াদস্থ দূতাবাস অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

‘রাষ্ট্রদূত নিজে এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের নাগরিকদের চিকিৎসা প্রদান এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সব ধরনের আন্তরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।’

এমন সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বন্ধু রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। এই দুর্যোগের দিনে শুধু সহায়তা চাওয়া নয়, তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য দিচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। আর বিএমইটির মাধ্যমে নিবন্ধনভুক্ত কর্মীদের কেউ নিহত হলে সরকারিভাবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।’

শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যমুখী, যার অর্ধেকের বেশি যায় সৌদিতে। যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে লোক পাঠানো কিছুটা কমলেও তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা করছি।’

তিনি মনে করেন, যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সেখানে বাংলাদেশীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার কাজও চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

দেশে ফেরা কর্মীদের জন্য রি-ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্টের আওতায় প্রশিক্ষণ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ মূল্যায়ন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে নুরুল হক বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় জিরো কস্টে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোসহ অন্যান্য জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, ট্রায়াল পর্ব শেষে ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত ও কার্যকর প্রমাণিত হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো কঠোর আইনি বিধিবিধান যেন সবাই মেনে চলে সে আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে যুদ্ধ সংক্রান্ত অডিও, ভিডিও বা ছবির ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলার প্রতি জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

আরও