সিলেটে ঈদের ছুটিতে পর্যটক উপস্থিতি বাড়ছে

সংশ্লিটরা জানিয়েছেন এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে।

সিলেটে বন্যার শঙ্কা কেটে গেছে, ঈদেন দিন ও এর পরের দিন কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে দীর্ঘ ১০ দিনের সরকারি ছুটিতে এবার মুখর হয়ে উঠতে শুরু করেছে সিলেটের পর্যটনকন্দ্রেগুলো। সংশ্লিটরা জানিয়েছেন এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলাও ভালো। বন্যার শঙ্কা কেটে যাওয়ায় পর্যটকদের সাড়া মিলেছে ব্যাপক। এতে আশা জাগিয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া সিলেটের পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টদের। তারা মনে করছেন কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে ঈদুল আযহার ছুটিতে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার, শাহপরান (রহ.) এর মাজার, জাফলং, পানথুমাই ঝর্ণা, সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, কুলুম ছড়া, মালনীছড়া চা বাগান, খাদিম জাতীয় উদ্যান, ডিবির হাওর, উৎমাছড়া ঝর্ণা, লোভাছড়া, লালাখাল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরসহ সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বেড়াতে আসেন দর্শনার্থীরা। ঈদ বা অন্য যেকোনো ছুটিতে প্রথমেই সিলেটকে বেছে নেন ভ্রমণ পিপাসু লোকজন। এর জন্য ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাই, সাদাপাথর, লোভাছড়াসহ সবকটি পর্যটন স্পটে এখন অন্যরকম আমেজ। বিভিন্ন রিসোর্টসহ হোটেল মোটেলগুলোতেও একটু আগেভাগেই অনেকে রুম বুকিং দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে দফায় দফায় বন্যা, রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে তেমন ব্যবসা হয়নি। এবারো বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল সিলেটে। একপর্যায়ে জুন মাসের শুরুতেই সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারনে সাদাপাথরসহ জাফলং, বিছানাকান্দি তলিয়ে যায়। ভেসে যায় ব্যবসায়ীদের কিছু স্থাপনা। জাফলং ভ্রমণে সতর্ক করা হলেও সাদাপাথরে ঢল বেশি থাকায় পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ উজানের ঢল কমে এলে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঈদের আগের দিন সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটক ভ্রমনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। জাফলংয়েও পর্যকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সাবেক সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, করোনাকাল থেকে নিয়ে বিগত কয়েক বছরে সিলেটের পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনতে গুনতে আর পারছেন না। ঈদ এলে কিছুটা আশায় বুক বাঁধেন। এবারো তাই হয়েছে। ঈদকে ঘিরেই মুলত সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বন্যার শঙ্কা যখন কেটে গেছে আশা করা যায় কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে সিলেটে।

আরও