ঘূর্ণিঝড়
রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের বেশির ভাগ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লবণ পানি প্রবেশ করেছে সুপেয় পানির উৎস সরকারি-বেসরকারি পুকুরে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) ও টিউবওয়েল। মোংলা,
রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার
বেশির ভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।
উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, নদীতীরবর্তী এলাকার অনেকে বাধ্য হয়ে লবণ পানি পান করছেন। লবণ পানি পান ও ব্যবহার করায় অনেকের চর্মরোগ ও পেটের পীড়াও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে দূরদূরান্ত থেকে পানি কিনে আনছেন। ঝড়ের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার পাওয়া গেলেও, সুপেয় পানির সরবরাহ ছিল না দুর্গত এলাকায়। সরকারিভাবে নদীতীরবর্তী এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঘষিয়াখালী গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম খলিফা বলেন, ‘ঝড়ের প্রভাবে এত বেশি জলোচ্ছ্বাস হয়েছে, পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। এখনো বেশির ভাগ জায়গায় পানি জমে রয়েছে। বাজারে যে পুকুরের পানি সবাই পান করত, সেই পুকুরের পানিও এখন লবণাক্ত। বাধ্য হয়ে অনেকেই লবণ পানি পান করছেন।’
একই গ্রামের জাহানুর বেগম বলেন, ‘চারদিকে পানি, তবে খাবার ও গোসলের পানি নেই। বাধ্য হয়ে লবণ পান করছি। প্রথম দুদিন কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু জীবন তো বাঁচাতে হবে। মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ, তেলিগাতি, বারুইখালী, হোগলাবুনিয়া, জিউধরা, বলইবুনিয়া, চিংড়াখালী, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সর্বত্রই এখন সুপেয় পানির সংকট।’
এদিকে শরণখোলা উপজেলা সদরের বাইরে সব জায়গায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের নাইম শেখ বলেন, ‘ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে, ঘর ভেঙেছে, রাস্তা ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে। সেসব এখন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। কিন্তু যে পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে, তা মিষ্টি করব কী দিয়ে। পানির যে কী কষ্ট তা বলে বোঝানো যাবে না।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুর্গত অঞ্চলের মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলায় তিনটি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ১২ হাজার লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।’
তবে দুর্গত অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পানিতে আসলে সংকট মিটবে না। এটা উপজেলার একটি জায়গায় দেয়া হচ্ছে। সুপেয় পানির সংকট মেটানোর জন্য প্লান্টের সংখ্যা বাড়ানো দরকার।