প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশে নতুন সাড়ে ১৪ হাজার পদ সৃষ্টি হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশে নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) চার হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল।’

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) চার হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২ হাজার ৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ এছাড়া সরাসরি দুই হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। যেখানে হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সব আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাগুলোয় দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালুমহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বর্তমান সরকার এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এসব অপরাধ অনেকাংশ কমেছে।’

জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত আছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও