আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ

বহুমাত্রিক দরিদ্রতার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

কভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। তবে অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য হ্রাসের যে সম্পর্ক বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি ছিল, তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর টানা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে দারিদ্র্য। গত চার বছরে নতুন করে ৮০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। আয়ভিত্তিক দারিদ্র্যের বাইরে আরো প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, মজুরি না বাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের আবার সেই দুষ্টচক্রে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, কাঠামোগত সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এ সংকট আরো গভীর হতে পারে।

আজ ১৭ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ দিবসটি ঘোষণা করে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসন’। মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের ভিত্তি হিসেবে পর্যাপ্ত আবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২৮০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অপর্যাপ্ত আবাসন সংকটে রয়েছে। এ সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে আগে থেকেই দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার মানুষদের।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। কভিড-পরবর্তী সময়ে নতুন করে ৮০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। এর মধ্যে গত এক বছরেই দরিদ্র হয়েছে ২১ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধির মন্থরতা, শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর যে ধারা ছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে আয়বৈষম্য। ফলে অর্থনীতির আকার বাড়লেও তার সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

কভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। তবে অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। এর সঙ্গে বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়। মহামারী-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার শুরু হলে সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ে। আমদানির মাধ্যমে এর প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ে। বিশ্বজুড়েই সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে। এ পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছিল। অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি কমাতেও সক্ষম হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তখন সেই নীতি গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হলেও ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ কারণে নীতিটি প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর হয়নি।’

ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, ‘দেশে মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ শুধু চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যাও। মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। কভিড ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং মানুষ সঞ্চয়ও ভেঙেছে। এসব কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে দারিদ্র্য বাড়ছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনের পর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও এখনো পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি। উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগও। এসব সংকটের সম্মিলিত চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের সঠিক ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

দারিদ্র্যের ঝুঁকি এখন আর শুধু আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, ঋণের বোঝা এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সীমাবদ্ধতাও মানুষের জীবনযাত্রাকে অনিরাপদ করে তুলছে। ফলে আয় কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, আবাসন ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে অনেক পরিবার। এ ধরনের একাধিক বঞ্চনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই)।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের প্রকাশিত বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বহুমাত্রিক দরিদ্র। আরো ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যে পতিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ আয়ভিত্তিক দারিদ্র্যের হিসাবের বাইরেও বড় একটি জনগোষ্ঠীর জীবনমান অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

একই সূচকে থাইল্যান্ডের দশমিক ৫ শতাংশ, ভিয়েতনামের ১ দশমিক ৯ শতাংশ, শ্রীলংকার ২ দশমিক ৯ শতাংশ ও চীনের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান—এ তিন মাত্রায় একাধিক বঞ্চনা একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সূচকটি তৈরি করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে দেশে এ ধরনের দারিদ্র্যের আরো বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে। সংস্থাটির ১১টি সূচকভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গড়ে ২৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। অর্থাৎ প্রতি চারজনের প্রায় একজন কোনো না কোনো মাত্রায় বঞ্চনার মধ্যে রয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি সিলেটে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ হার বান্দরবানে, ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে কক্সবাজারে ৪৭ দশমিক ৭০, সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৬, রাঙ্গামাটিতে ৪৫ দশমিক ৮৯ ও ভোলায় ৪৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, দেশের সব অঞ্চলে দারিদ্র্যের চাপ সমান নয়। বিশেষত পাহাড়ি, চরাঞ্চল ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ বহুমাত্রিক বঞ্চনার শিকার হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষণায় দারিদ্র্য বৃদ্ধির সতর্কবার্তা উঠে এলেও সরকার সংকটটিকে সাময়িক অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখছে বলে মনে করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘নানা সংকটে দেশের অর্থনীতি একের পর এক ধাক্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষ নানাভাবে এসব ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও রাষ্ট্র সেই অনুযায়ী সক্ষমতা দেখাতে পারছে না। রাষ্ট্র দারিদ্র্যের সংকটটিকে একটি সাময়িক অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখছে। সংকটকে দেখার ক্ষেত্রে এখানে বড় ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ধরনের কাঠামোগত ফাঁদের মধ্যে পড়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংকটকে যখন সাময়িক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন তা মোকাবেলার উদ্যোগও সেই বিবেচনা থেকে নেয়া হয়। এ কারণেই কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ তৈরি হচ্ছে না। আমরা ঘুরেফিরে সাময়িক সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। সংকটের মূল কারণ দূর করার উদ্যোগ নেই। এর প্রকৃতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারার ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি দিন দিন গভীর হচ্ছে। শ্রীলংকা সংকটের প্রকৃতি চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে। দেশটিরও সমস্যা রয়েছে, তবে সংকটের ধরন বুঝে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা কার্যকারিতা দেখিয়েছে তারা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সে জায়গায় ঘাটতি রয়ে গেছে।’

দারিদ্র্য কমাতে সরকার সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার ১৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকিনির্ভর কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গতকাল ব্যাংককে বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে।’

আরও