সাতক্ষীরায় টানা প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের বৃষ্টিতে জেলা পুলিশ লাইন দুই সপ্তাহ ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক রিজার্ভ পুলিশ সদস্যের কার্যক্রম। ব্যাহত হচ্ছে পুলিশের প্রশিক্ষণ, রেশন বিতরণ, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও যানবাহন চলাচল।
পুলিশ লাইনের ভেতরেই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও। হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে তাদের পুলিশের কার্যালয়ে ঢুকতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খান জানান, সপ্তাহখানেক ধরে পানি জমে আছে। এতে করে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য ডেঙ্গু, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়েছেন। ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
তিনি আরো বলেন, জেলার ৮টি থানার কর্মকর্তাদেরও প্রতিদিন এই পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে পুলিশের যানবাহনসহ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পুলিশ লাইন বদ্ধ পানিতে তলিয়ে আছে। বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানস কুমার জানান, দীর্ঘ সময় বদ্ধ পানি থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ে।
পুলিশ সুপার বলেন, শুধু পুলিশ সদস্যরাই নয়, সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদেরও এ অবস্থায় কষ্ট পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিডিএলজি মাশরুবা ফেরদৌসি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।