স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬

উচ্চ শক্তির রডে নির্মাণকাজে ব্যবহার কমবে ১৫–২০ শতাংশ : জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের যে রড তৈরির নতুন প্রযুক্তি আসছে, আমরা যে ইস্পাত তৈরি করি, পুরনো প্রযুক্তিতে যেখানে এক টন রড তৈরি করতে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, সেখানে নতুন প্রযুক্তিতে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোওয়াটের মধ্যে সেটা করতে পারছি।

নতুন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রড ব্যবহার করে নির্মাণকাজে রডের ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ২০ শতাংশ বেশি শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেডের রডকে মাথায় রেখে যদি নকশা করা হয়, তাহলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রডের ব্যবহার কমে যায়। সে ক্ষেত্রে কলামগুলো, যেগুলো মোটা কলাম, সেগুলো কিছুটা চিকন করা যায় এবং জায়গাও বেড়ে যায়। পুরনো প্রযুক্তিতে যে সিমেন্ট আমরা তৈরি করি, সেখানে প্রতি টন সিমেন্ট উৎপাদনে ৪৫ থেকে ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। আবার নতুন প্রযুক্তিতে যেটা তৈরি করি, সেখানে ২৮ থেকে ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ ‘আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার ‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’-এর ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের যে রড তৈরির নতুন প্রযুক্তি আসছে, আমরা যে ইস্পাত তৈরি করি, পুরনো প্রযুক্তিতে যেখানে এক টন রড তৈরি করতে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, সেখানে নতুন প্রযুক্তিতে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোওয়াটের মধ্যে সেটা করতে পারছি। এ যে আমরা বিদ্যুৎ খরচ কমাচ্ছি, আমরা কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছি, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমাচ্ছি। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য অর্থাৎ বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা আমরা তৈরি করছি। এগুলো আমরা ইস্পাত শিল্পে করছি এবং সিমেন্ট শিল্পেও করছি।’

ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তিতে যে ইস্পাত বা রড তৈরি হচ্ছে, সেটা শুধু বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খরচ কমায়, তা নয়। এটি উচ্চ শক্তির রড তৈরি করে। আগে যেটা ৪০০ গ্রেডে ছিল, সেটি আপগ্রেড হয়ে ৫০০ গ্রেডে এসেছে। আবার ৫০০ গ্রেড থেকে ৬০০ গ্রেডে এসেছি। নতুন প্রযুক্তিতে ইস্পাত তৈরি করলে সেটি ৬০০ গ্রেড পর্যন্ত করা যায়। ৫০০ গ্রেডের শক্তি হচ্ছে ৭২ হাজার ৫০০ পিএসআই, আর ৬০০ গ্রেডের শক্তি হচ্ছে ৮৭ হাজার পিএসআই। অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি শক্তি।

জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ২০ শতাংশ বেশি শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেডের রডকে মাথায় রেখে যদি নকশা করা হয়, তাহলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রডের ব্যবহার কমে যায়। সে ক্ষেত্রে কলামগুলো, যেগুলো মোটা কলাম, সেগুলো কিছুটা চিকন করা যায় এবং জায়গাও বেড়ে যায়। এভাবে যদি বিষয়টিকে মাথায় রেখে নকশা করা হয়, ইতোমধ্যে অনেকে ৬০০ গ্রেডের রড দিয়ে নকশা করছেন। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রড আমরা দিতে পারছি, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত, শিল্প খাত, সেতু-কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘এখানে প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি যদি আমরা দেখি, যেখানে এক লাখ টন রডের প্রয়োজন হয়, এই রড ব্যবহার করলে সেখানে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টন রডেই কাজ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ হাজার টন রডের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এই ১৫ থেকে ২০ হাজার টন রডের জন্য যে কাঁচামাল বাইরে থেকে আমদানি করতে হতো, সেটাও সাশ্রয় হচ্ছে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। আমি যে বিদ্যুৎ খরচ কম করছি, এর জন্য যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো, সেটাও সাশ্রয় হচ্ছে।’

আবাসন, শিল্প, সেতু-কালভার্টসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রডের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি চালু করতে প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে। এ ধরনের শিল্পকে সবুজ অর্থায়নের আওতায় গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন অর্থায়ন, কর ও মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও