দাউদকান্দিতে ৪৬ কৃষি ব্লকে মাত্র ১৮ কর্মকর্তা

জনবল সংকটে সেবাবঞ্চিত কৃষক

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ৪৬টি কৃষি ব্লকের বিপরীতে কর্মকর্তা আছেন মাত্র ১৮ জন।

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না থাকায় জনবল সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে কৃষিতে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম। ফলে সময়মতো সরকারি সেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার ৮০০ হেক্টর ফসলি জমিতে বছরজুড়ে কৃষিকাজ করে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক পরিবার। ড্রাগন ফল, ধান, ভুট্টা, গম, পাট, বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল উৎপাদনের মাধ্যমে এ অঞ্চল জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখছে। এ ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় কৃষি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময়মতো কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ দাউদকান্দির ৪৬টি কৃষি ব্লকের জন্য বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রদর্শনী স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও জরুরি কৃষি সহায়তা ব্যাহত হচ্ছে।

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় কৃষি সম্প্রসারণের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে এত বড় কৃষি এলাকায় সব কৃষকের কাছে সময়মতো পৌঁছে সেবা নিশ্চিত করা বাস্তবিক অর্থে কঠিন। প্রায় সারা দেশেই একই ধরনের জনবল সংকট রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার মূল চালিকাশক্তি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় এসব কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায়, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাই কৃষক ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করেন। তাই কৃষকদের দোরগোড়ায় মানসম্মত কৃষি সেবা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কৃষক শক্তিশালী হলে কৃষি শক্তিশালী হবে, আর কৃষি শক্তিশালী হলেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরো সুদৃঢ় হবে।’

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শূন্য পদ রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছি। সরকার দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করবে।

আরও