২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে শুধু প্রবৃদ্ধির বিপরীতে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোর চেয়ে মানুষের উন্নতিতে নজর দেয়ার কথা বলা হলেও বরাদ্দে সে রকম ফলাফল দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
গতকাল গুলশানের একটি হোটেলে বাজেট নিয়ে আয়োজিত সিপিডির এক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেটে কিছু ভালো ভালো উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রবৃদ্ধির বাইরে গিয়ে সামগ্রিক উন্নয়নের নজর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অতীতে আমরা মানুষের উন্নয়নের চেয়ে অবকাঠামো খাতে উন্নয়নের দিকে বেশি নজর দিতে দেখেছি। সেখানে এবারের বাজেটে অবকাঠামোর বিপরীতে মানুষের ওপর জোর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাজেটের বরাদ্দে সে প্রতিশ্রুতির ফলাফল দেখা যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটে করের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতে প্রণোদনাও দেয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর বসিয়ে সেগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ খরা, ব্যবসার বাড়তি খরচ থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অথচ বাজেটে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব আহরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ, ব্যয়ের কাঠামো কিংবা খাতভিত্তিক বরাদ্দের সঙ্গে এ উদ্দেশ্যটা সাংঘর্ষিক।’
বাজেটে বড় কোনো সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে চারজন অর্থনীতিবিদ রয়েছেন। তার পরও কেন গতানুগতিক বাজেট হলো। আমি মনে করি, উপদেষ্টা পরিষদের সবাই অর্থনীতিবিদ হলেও ব্যতিক্রম কিছু হতো না। কারণ বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে যে সাহস দেখাতে হয়, সেটির জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এনামুল হক খান, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ও বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, সোশ্যালিস্ট লেবার ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা প্রমুখ।