রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড

এত মরদেহ এর আগে একসঙ্গে দেখেনি গণ্ডগোহালীর মানুষ

সকাল ১০টায় আত্রাইয়ের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। পরে জুমার নামাজের পর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কিছুক্ষণের জন্য কফিনের মুখ খোলা হলে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখেন স্বজনরা। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সোয়া ১২টা। গ্রামের সড়কে একে একে ঢুকল লাশবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্স দেখেই আর্তনাদে ফেটে পড়লেন মোহন ও সুমনের মা ময়না খাতুন। দুই হাত তুলে সন্তানদের বেহেশত কামনা করছিলেন তিনি। অন্যদিকে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের কাছে ছুটে যান কলিমুদ্দিনের মা কারিমা। সন্তান আর কোনোদিন সাড়া দেবে না জেনেও গলা ফাটিয়ে বারবার ডাকছিলেন ছেলের নাম।

এমন দৃশ্য আজ দেখা গেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামে। সৌদি আরবের রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশীর মরদেহ দেশে ফেরার পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে।

সকাল ১০টায় আত্রাইয়ের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। পরে জুমার নামাজের পর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কিছুক্ষণের জন্য কফিনের মুখ খোলা হলে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখেন স্বজনরা। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।

গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে এতগুলো লাশ কখনো দেখেননি। এ ঘটনার পর থেকেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে ছেলেগুলো মারা গেছেন, তারা সবাই পরিবারের উপার্জনের একমাত্র উৎস ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবেও ভেঙে পড়েছে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ছেলেগুলো ধারদেনা করে বিদেশে গিয়েছিলেন। ধারদেনা পরিশোধ করে কেবল সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন। এর মধ্যেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এ ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত।

নিহত মোহন ও সুমনের মা ময়না খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে দুজন বলতেন, ‘মা, আর কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরব। দেশে এসে বাড়ির কাজ শেষ করব। তোমাকে নিয়ে একসঙ্গে সুখে থাকব।’

ময়না খাতুনের স্বামী প্রতিবন্ধী। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা বুঝতে পারছেন না। সরকারের কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ ওনার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় পৌঁছায়। এর আগে ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসে।

সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত নওগাঁর সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

আরও