প্রযুক্তির ব্যবহার নির্ধারণে মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ: মাহ্‌দী আমিন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির ধারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের ব্যবহার বাড়ছে। এআই বড় পরিসরে তথ্য তৈরি ও বিশ্লেষণ, কোড লেখা এবং নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন তৈরিতে সক্ষম। তবে এসব প্রযুক্তি সমাজের কাজে লাগবে, নাকি মানুষের জন্য বাধা তৈরি করবে, তা নির্ভর করবে মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা ও সুবিবেচনার ওপর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মানবকল্যাণে হবে নাকি অকল্যাণে, তা নির্ধারণে মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সুবিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি দিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা ও নতুন উদ্ভাবন সম্ভব হলেও এর ব্যবহার কীভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে, তা নির্ভর করে মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আজ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির ধারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের ব্যবহার বাড়ছে। এআই বড় পরিসরে তথ্য তৈরি ও বিশ্লেষণ, কোড লেখা এবং নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন তৈরিতে সক্ষম। তবে এসব প্রযুক্তি সমাজের কাজে লাগবে, নাকি মানুষের জন্য বাধা তৈরি করবে, তা নির্ভর করবে মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা ও সুবিবেচনার ওপর।

প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের দায়িত্ব শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়া নয়, বরং সমাজের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শিল্পখাতের পরিবর্তন, বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী উদ্ভাবন শুধু সিলিকন ভ্যালি থেকেই আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেও প্রযুক্তির পরবর্তী বড় উদ্ভাবন আসতে পারে। এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ সহায়তা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

গ্র্যাজুয়েটদের নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের এমন সমস্যার সমাধান করতে হবে, যা মানুষের জন্য জরুরি। সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়া, বিনয়ের সঙ্গে মানুষের সেবা করা এবং অর্জিত জ্ঞান দিয়ে স্থায়ী প্রভাব তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আইইউটির আন্তর্জাতিক পরিচয় তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য ও অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতীক। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ, সংস্কৃতি ও ভাষায় ভিন্নতা থাকলেও চ্যালেঞ্জ, আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধের অনেক মিল রয়েছে। জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা, উদ্ভাবনকে অভিন্ন স্বার্থ এবং মানবতাকে সামগ্রিক লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহ্‌দী আমিন তাদের অর্জনের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা জ্ঞান দিয়েছেন, পরিবার দিয়েছে শেকড় ও আত্মপরিচয়, আর শিক্ষা দিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য। এ সামর্থ্য কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্র্যাজুয়েটদেরই নিতে হবে।

আরও