পলাশবাড়ী পৌরসভায় অনুন্নত রাস্তাঘাট, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা

সামান্য বৃষ্টিতেই হয় জলাবদ্ধতা

পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। পৌরসভার রাস্তাঘাট এখনো অনুন্নত। অনেক বাসাবাড়িতে সরবরাহের পানি যায় না। ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও ডাস্টবিন না থাকায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা পড়ে থাকে। এতে জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়ছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। কিন্তু সাত বছর পার হলেও এখনো এটি ‘গ’ শ্রেণীর পৌরসভাই রয়ে গেছে। সীমানা জটিলতা কেটে কার্যক্রম শুরুর পর মানুষের মনে আশা জাগলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না মেলায় এখন অসন্তোষ বিরাজ করছে।

‎পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ পৌর এলাকায়। নির্দিষ্ট কোনো ডাস্টবিন না থাকায় যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা। এছাড়া এলাকার অনেক রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

‎সরজমিনে দেখা যায়, পৌর সদর এলাকার হাইস্কুল রোড, প্রেস ক্লাব, প্রফেসরপাড়া রোড, পিয়ারী স্কুল, জামালপুর রোড, বেলের ঘাট ও কালিবাড়ী বাজার রোডে পানি জমে আছে। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীসহ সব নাগরিক চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে।

‎পৌর বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, ‘পলাশবাড়ী পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনুন্নত রাস্তাঘাট। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও টেকসই রাস্তাঘাট নির্মাণ ছাড়া এ শহরকে আধুনিক করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শহরের নির্দিষ্ট স্থানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করে বর্জ্য অপসারণ করা হোক।’

‎পলাশবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। যেসব বাসাবাড়িতে পানি যাওয়ার সুযোগ নেই, সেগুলো নিয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা রাস্তায় যে ময়লার স্তূপ ছিল সেগুলো অপসারণ করেছি। এটি যেহেতু “‍গ” শ্রেণীর পৌরসভা, তাই এ মুহূর্তে জমি কেনার সক্ষমতা নেই। আপাতত ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সার্বিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’

আরও