দীর্ঘদিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নয়ছয় করার সুযোগ নেই। জনগণের প্রাপ্য জনগণকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। আমরা কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
গতকাল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘যশোর ২৫০ শয্যা’ হাসপাতালে রোগীদের জন্য ফ্যান, হুইলচেয়ার, ট্রলি ছাড়াও পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়াকরণ সরঞ্জামাদি, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং মেলার শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না। উন্নয়নের জন্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্য পার্থক্য কিংবা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। আমার যখন অনুদান দেয়ার সময় এসেছে—দুটি অনুদানের মধ্যে একটি কারবালা কবরস্থানে ও আরেকটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দিয়েছি। অতীতে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিতে হতো। প্রধানমন্ত্রী এ সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, পারিবারিক কার্ড সবার জন্য নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না এমনটি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল ও কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থসহায়তা করার ঘোষণা দেন।
সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিমন্ত্রী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০০ ফ্যান, ১০টি করে ট্রলি ও হুইলচেয়ার, প্রতিবন্ধী কেন্দ্রে ১০টি হুইলচেয়ার, আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের আধুনিকায়নের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস, ১৭৫ জনের মধ্যে নগদ ৪ হাজার টাকা, ১০ জনের মধ্যে গৃহ নির্মাণের চেক, ৫০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, তিনজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্র ঋণ, ছয়জন কৃষি উদ্যোক্তাকে প্রক্রিয়াকরণ সরঞ্জামাদি দেন।