সংকট আরো ঘনীভূত করছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে দুই লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া—এমন একটি খবরকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারগুলোয় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে কমেছে কর্মী গমন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বলা হয়েছিল জাপানে যাবে লাখো কর্মী। সে রকম কিছু বাস্তবায়নের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বিদেশে কর্মী গমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে বর্তমান সরকারের। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ নেমে এসেছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নয় মাসে বিদেশে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন কর্মী কম গিয়েছেন।

২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, বাহরাইন, ওমানসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বাজার বন্ধ হয়ে যায়। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিদেশী কর্মীর উৎস দেশ হিসেবে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির মোট বিদেশী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশী। এ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করেও এ বাজার উন্মুক্ত করতে পারেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাচ্ছে।’ কিন্তু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি মন্ত্রণালয়। বাজারটি কবে কার্যকরভাবে খুলবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে দুই লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া—এমন একটি খবরকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অন্যদিকে আগামী পাঁচ বছরের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘থার্টিন্থ মালয়েশিয়া প্ল্যান ২০২৬-৩০’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদেশী শ্রমিকের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশটির শ্রমবাজার চালু হলেও কী পরিমাণ কর্মী যাওয়ার সুযোগ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর ২৫ মে জাপান সফরে গিয়ে ঘোষণায় বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। যদিও ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট কর্মী গেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন। আর চলতি বছর প্রথম নয় মাসে ১ হাজার ৬০৮ জন।

ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মীর চাহিদা বিপুলভাবে কমে গেছে। এ চাহিদা ৫ শতাংশ থেকে নেমে প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে জানা যায়। এ পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশী কর্মী গমনেও।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী গমনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়াতে বিদেশে কর্মী গমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে সৌদি আরবে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন কর্মী গেলেও চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জনে। দেশের প্রধান এ শ্রমবাজারে গত বছরের তুলনায় কর্মী গমন ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে।

একসময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিক্ষোভের পর বাংলাদেশীদের ভিজিট ও কর্মী ভিসা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ছুটিতে দেশে আসা কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর ভিসা বাতিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিসা বাতিল হওয়া এ বাংলাদেশীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০।

বর্তমানে চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশী কর্মী কাতারে কাজ করছেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশের শ্রমিকরা দক্ষ নয় এমন অভিযোগে কর্মী নেয়া একেবারেই বন্ধ করে দেয় কাতার। বন্ধ হওয়ার কয়েক মাস পর চালু হলেও শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে গত বছর প্রথম নয় মাসে ৮০ হাজার ৫৭০ জন কর্মী দেশটিতে যান। তবে চলতি বছরে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭৯ জনে। একসময় দেশটিতে বছরে লাখের বেশি কর্মী যাওয়ার রেকর্ডও ছিল।

চলতি বছর মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি খাতে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে বৈঠকের পর গত চার মাসে দেশটিতে কর্মী প্রেরণের হারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।

২০০৭ সালের প্রথম নিষেধাজ্ঞার পর ২০১৪ সালে কুয়েত সীমিত পরিসরে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া শুরু করে। কিন্তু ভিসা জালিয়াতি ও অনিয়মের কারণে ২০১৮ সালের মার্চে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মূলত অনুমোদনহীন ‘ভিসা বাণিজ্য’, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার অভিযোগেই কুয়েত সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সাধারণ কর্মী ও গৃহকর্মীদের জন্য কুয়েতের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে কেবল বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি ও নির্দিষ্ট কিছু খাত ছাড়া সাধারণ কর্মীদের জন্য আর সচল হয়নি। এ দেশেও চলতি বছর কমেছে কর্মী যাওয়া। গত বছর প্রথম নয় মাসে ৩৪ হাজার কর্মী দেশটিতে গেলেও এ বছর তা কমে এসেছে ২২ হাজারে।

সরকার বিদেশে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পর সে দেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যানে বাজার চালুর সুযোগ নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কার্যকর দ্বিপক্ষীয় নেগোসিয়েশনের অভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাজারগুলোয় নতুন কর্মী নিয়োগ থমকে গেছে।’

ওকাপ চেয়ারপারসন আরো বলেন, ‘আমাদের মূল দুর্বলতা হলো এখন পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী অভিবাসনকেন্দ্রিক কূটনীতি গড়ে ওঠেনি। এছাড়া বাংলাদেশের অনিয়মে আক্রান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কর্মীদের এক ধরনের ‘ঋণ দাসত্বে’ ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’

শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের মে মাসের পর টানা চার মাস দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস দেশে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি মাসে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা যাচ্ছে, চলতি বছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়নি, অন্যদিকে বিদেশে কর্মী প্রেরণে প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনো বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেনি।

দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিদেশে পাঠাতে বিএমইটির অধীনে বর্তমানে দেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আরো ৫০টি কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলমান। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীর বেশির ভাগেরই বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

শ্রমবাজারের একটি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক থাকলেও কেবল রাজনৈতিক বা নির্বাচনী ইশতাহার যথেষ্ট নয়। বরং বিএমইটি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাজারের বাস্তবতা পর্যালোচনা করে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন আসিফ মুনীর। এ অভিবাসন বিশেষজ্ঞ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কেবল প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন করতে হবে। নতুন নতুন দেশ ও খাতে শ্রমবাজার উন্মোচনে দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও শক্তিশালী অভিবাসন কূটনীতি সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। কিন্তু তা পূরণে প্রয়োজনীয় সক্ষমতার মাত্র ৫৫-৬০ শতাংশ বর্তমানে দেশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী। গত সোমবার ‘দ্য ন্যাশনাল কনসালটেশন অন স্কিলস, মাইগ্রেশন অ্যান্ড মবিলিটি: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান ধারায় কাজ চললে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ৫৫-৬০ শতাংশ বাংলাদেশের রয়েছে। তাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা বাড়াতে আরো জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।’

প্রবাসে বাংলাদেশী কর্মীদের কাজের সুযোগের পাশাপাশি উপযুক্ত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মক্ষম মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বছর ৮-১০ লাখ কর্মী গমনের সংখ্যাটি পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানো হবে। বিশ্বের কোন দেশে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে তা চিহ্নিত করে কর্মীদের গন্তব্য দেশের ভাষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতায় পারদর্শী করে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর জন্য সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি দেশে এমওইউ প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সংকট তৈরি হলেও আশা করছি বৈদেশিক শ্রমবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে।’

আরও