চুয়াডাঙ্গায় মাছ চাষ বাড়লেও ঘাটতি কমছে না

চুয়াডাঙ্গায় প্রতি বছর বাড়ছে মাছ চাষ। তবু রয়েছে ঘাটতি। জেলায় মাছের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ২৫ হাজার ২৪৬ টন।

চুয়াডাঙ্গায় প্রতি বছর বাড়ছে মাছ চাষ। তবু রয়েছে ঘাটতি। জেলায় মাছের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ২৫ হাজার ২৪৬ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৬ টন। এ হিসাবে এখনো ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৬২০ টন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে জেলায় মাছচাষী ছিল ৮ হাজার ৪২৬ জন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩১২ জনে।

মৎস্যচাষীরা বলছেন, পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও মাছ চাষ সম্প্রসারণে পিকেএসএফ অর্থায়ন করছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গ্রামীণ পর্যায়ে কাজ করছে চুয়াডাঙ্গার ওয়েভ ফাউন্ডেশন। সদর উপজেলার বেগমপুর, দামুড়হুদা সদর, কার্পাসডাঙ্গা, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদ-উর-রহমান বলেন, ‘পিকেএসফের অর্থ সহায়তায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮১টি খামারের প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্নত ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নমূলক তিনটি প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মাছ চাষের জন্য উপযোগী করতে ৭৫ জন উপকারভোগীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলার তিনটি উপজেলা ও ১৫টি ইউনিয়নে মাছ চাষ বাড়ানোর জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের শেখ সাদি জানান, তিনি ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৭০ বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। তার পুকুরে মলা মাছের ব্রুড ব্যাংক আছে। ওই পুকুরে উৎপাদিত মলা মাছ ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কাছেই বিক্রি করছেন। এখানকার মাছ অন্যান্য পুকুরেও ছাড়া হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ঠিকমতো না হওয়ায় স্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে হচ্ছে। সেজন্য উৎপাদিত মাছের দামও বেড়ে গেছে।

একই উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা খাতুন জানান, পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য ওয়েভ ফাউন্ডেশন তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যাংকে মাছ চাষের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রায় দুই বছর তাদের পরিবারে মাছ কিনে খেতে হচ্ছে না।

তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মাছ উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭৪১ টন। আর ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫০৫ টন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৬ টন। সে হিসাবে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়য়েছে ১ হাজার ৬২০ টনে।’

মাছের ঘাটতি থাকলেও চাষীর সংখ্যা বেড়েছে বলেও জানান দীপক কুমার। তিনি বলেন, ‘২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মাছ চাষী ছিল ৮ হাজার ৪২৬ জন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩১২ জনে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাছ চাষী ছিল ৯৫০ জন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে চাষীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। তবে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে পোনা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ৪০১ জন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২৯৭ জনে। এছাড়া জেলায় গত দুই অর্থবছরের হিসাবে মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৫ হাজার ১১২ জন। তারা ৪৪টি মৎস্যজীবী সমিতির আওতাভুক্ত। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে মাছ চাষ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও