রাজধানীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসব শুরু ২৬ অক্টোবর

‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে সংযোগ বাড়াতে রাজধানীতে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’। আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে জ্বালানি ন্যায়বিচার সমাবেশ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মেলা, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সংযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আরো উপস্থিত থাকবেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। এছাড়া ১ম ও ২য় দিনে দুটি এনার্জি টকে বক্তব্য দেবেন বুয়েটের দুজন অধ্যাপক এবং সমাপনী আয়োজনে যোগ দেবেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৯৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ গ্যাস, এলএনজি, কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলনির্ভর। এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি। বিপরীতে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য উৎসের অবদান ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসবের প্রথম দিন ২৬ অক্টোবর ‘পাওয়ার টু দ্য পিপল: এনার্জি জাস্টিস অ্যাসেম্বলি’ শীর্ষক জ্বালানি ন্যায়বিচার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে নারী, তরুণ, শ্রমিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা, সংকট ও জ্বালানি অধিকারসংক্রান্ত দাবি তুলে ধরবেন। এসব দাবি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেয়াই সমাবেশের অন্যতম লক্ষ্য।

দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর উদ্বোধনের পর শুরু হবে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলা। এতে দেশীয় উদ্ভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি ‘ইনোভেশন-টু-ইমপ্যাক্ট মার্কেটপ্লেস’ প্ল্যাটফর্মে তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকের সামনে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে প্রারম্ভিক মূলধন দেয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। এ আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

উৎসবের শেষ দিন ২৮ অক্টোবর জ্বালানি নীতি, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা, সুশাসন, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি, শ্রম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অবদান রাখা উদ্ভাবক, তরুণ নেতৃত্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; এর জন্য মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধ প্রয়োজন। ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ এ সমন্বিত প্রচেষ্টার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও