আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে। সংলাপে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে এখন পর্যন্ত ইসি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিংকালে ইসি সচিব বলেন, আমরা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করবো এবং নিবন্ধিত দল নিয়েই আলোচনাটা করতে হবে। ১৩ তারিখে কাদেরকে ডাকা হবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি। আমাকে একটু সময় দিন, তালিকাটি প্রকাশ করব।
জাতীয় পার্টি সংলাপে অংশগ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত হয়নি। যদি সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে আপনাদের জানানো হতো। আমরা এখনো কিছু জানাইনি, তাই ধরে নিতে পারেন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা কিছু গোপন করছি না। সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের জানানো হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সাড়া দেবে। সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।
সচিব জানান, সংলাপে মূলত সংশোধিত আরপিও এবং আচরণবিধির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে। দলগুলোর নিজস্ব মতামতও শোনা হবে। আমরা চাই দলগুলো আচরণবিধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সহযোগিতা করুক।
আচরণবিধিতে বেশ কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সচিব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাইক্রোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একক জনসভায় তিনটির বেশি এমপ্লিফায়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ; পৃথক সভায় তিনটি করে ব্যবহার করা যাবে। পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; প্লাস্টিক জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত আকারের ফেস্টুন ও লিফলেট অনুমোদিত কিন্তু স্থায়ী বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও, প্রার্থী ও দলকে আচরণবিধি ও আইন মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।
গতকাল সোমবার আদালতের রায়ে বাগেরহাটের তিনটি নির্বাচনী আসন বাতিল করে চারটি আসনই পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা এখনো সার্টিফায়েড কপি পাইনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ পাওয়ার পরই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে আপিল করা হবে নাকি রায় মেনে নেয়া হবে।
তিনি বলেন, সীমানা সংক্রান্ত প্রায় ৩০টি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নোটিশ আসছে। গতকালও দুটি নোটিশ পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। মাস শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আরেকটি সভা হবে।
সচিব এসময় সার্বিক কার্যক্রমে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা পর্যবেক্ষক নিবন্ধন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ—এ দুই বিষয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছি। তবে এই মাসের মধ্যেই কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছি।
গণভোট বিষয়ে কমিশনের অবস্থান জানিয়ে সচিব বলেন, গণভোট বিষয়ে কমিশন বা সচিবালয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। পূর্বের অবস্থানই বহাল রয়েছে।