দেশে তথ্য ও প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার বেড়ে চলছে। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও ইন্টারনেটের গতি, সেবার মান ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ গ্রাহকদের। এর পরও এক বছরের ব্যবধানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার’ শীর্ষক জরিপে এসব উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি তিন মাস অন্তর কোয়ার্টার ভিত্তিক আইসিটি জরিপ প্রকাশ করে। গতকাল প্রকাশিত সর্বশেষ চতুর্থ কোয়ার্টার (এপ্রিল-জুন) শেষে দেশে ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইন্টারনেট ব্যবহাকারীর সংখ্যা ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৪ ও তৃতীয় কোয়ার্টারে (জানুয়ারি-মার্চ) ছিল ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ছিল ৫৫ শতাংশ।
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা বাড়লেও এখনো প্রায় ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে। আবার ইন্টারনেট ব্যবহারে নারী-পুরুষ বৈষম্যও রয়ে গেছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এ যুগে এসেও দেশের ৫১ শতাংশ নারী এখনো ইন্টারনেটের বাইরে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। দেশে বর্তমানে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। যার মধ্যে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশই নিজস্ব ফোন। তবে কমছে কম্পিউটার ব্যবহারের হার। বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যমতে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার মাত্র ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়লেও গতি ও সেবার দাম নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘দি আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইন্টারনেটে ধীরগতির দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৪৩ মেগাবাইট। অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডে গতি ৬৬ মেগাবাইট। যেখানে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত, শ্রীলংকার মতো দেশগুলো বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
মোবাইল অপারেটরদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যমতে, গত সাড়ে পাঁচ বছরে চার মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা পড়েছে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ, বেশির ভাগই নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং সেবার মান নিয়ে।
ইন্টারনেটের ধীরগতির পাশাপাশি উচ্চমূল্য নিয়েও গ্রাহকদের ভোগান্তি রয়ে গেছে। বিটিআরসির সর্বশেষ মূল্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দুই বছরে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক—এ চার মোবাইল অপারেটরই বিভিন্ন মেয়াদে ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। প্যাকেজ মূল্য বেড়েছে সর্বনিম্ন ৪৬ থেকে সর্বোচ্চ ৫৯৯ টাকা পর্যন্ত।
ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। কিন্তু সে তুলনায় সেবার মান বাড়ছে কিনা সেটাই প্রশ্ন। উচ্চগতি ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হলে অপারেটরদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ করতে হবে।’