সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই

স্বর্ণ ডাকাত চক্রে সাবেক সেনা ও পুলিশ সদস্য

দেশে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কেনা-বেচা হয় পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে। এ বাজার থেকে ঢাকার বড় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি জেলা শহরের ব্যবসায়ীরাও স্বর্ণ কিনে নিয়ে যান। পরে সেই স্বর্ণ গ্রাহকের অর্ডার অনুযায়ী গহনায় রূপান্তর করা হয়। সম্প্রতি এ বাজার থেকে স্বর্ণ কিনে ফেরার পথে একের পর এক ডাকাতির কবলে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কেনা-বেচা হয় পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে। বাজার থেকে ঢাকার বড় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি জেলা শহরের ব্যবসায়ীরাও স্বর্ণ কিনে নিয়ে যান। পরে সেই স্বর্ণ গ্রাহকের অর্ডার অনুযায়ী গহনায় রূপান্তর করা হয়। সম্প্রতি বাজার থেকে স্বর্ণ কিনে ফেরার পথে একের পর এক ডাকাতির কবলে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এমন একটি ডাকাত চক্রকে গ্রেফতারের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চক্রে সাবেক সেনা পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন। গতকাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারের আমিনবাজার থেকে পুলিশ পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৬৬ দশমিক ৫৫৩ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি হয়। এর আনুমানিক মূল্য কোটি ১৪ লাখ ৯২ হাজার ১৫৭ টাকা। লুট হওয়া সেই স্বর্ণ ডাকাত চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন মানিকগঞ্জের সুরেশ চন্দ্র হালদার, কেরানীগঞ্জের মিঠুন মজুমদার, উজ্জ্বল চন্দ্র, মুন্সীগঞ্জের মিহির দাস, শংকর চন্দ্র ঘোষ, পল্লবীর সোহেল আহমেদ পল্লব, বহিষ্কৃত সাবেক সেনা সদস্য ফারুক হোসেন মাদারীপুরের মিঠুন চৌকিদার।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, এরা পুলিশ ডিবি পরিচয় দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ডাকাতি করতেন। চক্রে জড়িত আরো সদস্যের নাম আমরা পেয়েছি। তাদের মধ্যে আরো একজন সাবেক সেনা সদস্য একজন পুলিশ সদস্যের নাম পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বাকি সদস্যদের নাম প্রকাশ করছি না।

এর আগে গত জানুয়ারি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী পরিচালক এসএম সাকিব হোসেন, সিপাহি আমিনুল ইসলাম সোর্স হারুন রাজধানীর জিন্দাবাহার লেনের একটি সোনার দোকানে যান। ডিবি পরিচয়ে তারা ওই দোকানের মালিককে তুলে নিয়ে যান এবং ৯০ ভরি সোনা লুট করেন। ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি কতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মামলা করেন। পুলিশ প্রথমে দোকানের একজন কর্মচারীসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তারা ডাকাতির ঘটনায় সাকিব হোসেনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে গত ১৯ জানুয়ারি পুরান ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাকিব হোসেনকে। তিনি ৩৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিয়োগ পান।

আরও