দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
বাংলাদেশ এখন একটি রূপান্তরকালীন সময় অতিক্রম করছে। অনেক জায়গাতেই আমরা কিছু উন্নতির লক্ষণ দেখছি। তবে অর্থনীতির সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিও কিছুটা শ্লথ হয়ে গেছে। এর স্বাভাবিক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে দেশের দুর্বলতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত উদ্যোক্তারা শিল্প সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য অনুকূল সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। সেই অনুকূল পরিবেশ এখনো পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় তারা নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না। এর প্রভাব বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও দেখা যাচ্ছে, যা বর্তমানে সাড়ে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো এখনো কাটেনি। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার ও টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড়াতে আরো কিছুটা সময় প্রয়োজন।
প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংক খুব ভালো করছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও মুনাফায় ৫০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?
ব্র্যাক ব্যাংক কয়েক বছর ধরেই সামগ্রিকভাবে ভালো করছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কম হলেও ব্র্যাক ব্যাংক কীভাবে এত ভালো করছে। বেসরকারি খাত কিংবা সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়লেও গত চার-পাঁচ বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ২০-২৫ শতাংশ। এর পেছনে মূলত কাজ করেছে ‘ফ্লাইট টু সেফটি’ বা নিরাপদ প্রতিষ্ঠানের দিকে গ্রাহকদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা। আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা যেমন সরকারি বন্ড বা স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করেন, তেমনি ব্যবসায়ী ও ব্যাংক গ্রাহকরাও নিরাপদ ও আস্থাশীল ব্যাংকে লেনদেন করতে চান। গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাতে এ প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
এছাড়া আমাদের সামগ্রিক সেবা প্রদানের সক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছরে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ও প্রচলিত উভয় ধরনের ব্যাংকিং সেবাকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পেরেছি। এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব এখন ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলোতে দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। একই সময়ে ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমাদের ব্যালান্স শিটের আকার প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশাল এ ব্যালান্স শিটও ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমাদের নিট সুদ আয় ও কার্যদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আয়-ব্যয়ের অনুপাত কমিয়ে ৪২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কাছাকাছি। খেলাপি ঋণের হারও কমেছে। গত বছর ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা চলতি বছর কমে ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যালান্স শিটের আকার বৃদ্ধি, কার্যদক্ষতার উন্নয়ন ও সম্পদের প্রবৃদ্ধি—সব মিলিয়েই ব্র্যাক ব্যাংকের এ সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে আমরা ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করতে পেরেছি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৯০৫ কোটি টাকা।
দেশের ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ না দিয়ে সরকারকে ঋণ দিতে এখন বেশি আগ্রহী। ব্র্যাক ব্যাংকও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের বিল-বন্ড কিনেছে। যদিও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের মূল ফোকাস ছিল সিএমএসএমই খাত। এ পরিস্থিতিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি আমাদের একটি বড় দায়িত্ব হলো ব্যাংকের ভ্যালু বাড়ানো। ‘ফ্লাইট টু সেফটি’র কারণে আমাদের ব্যাংকে যে আমানত আসছে, তা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো খুবই কঠিন। উদ্যোক্তারা এগিয়ে না এলে সহসা এ পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে বাজারে সুযোগ সীমিত হলেও আমাদের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ায় অন্যদের তুলনায় আমরা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এসএমই খাতে অনেক ব্যাংক হয়তো শুধু মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে; ছোট বা ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে না। কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংকের সিএমএসএমই পোর্টফোলিওতে এ খাতের সর্বস্তরের উদ্যোগেই বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের ব্যালান্স শিটের প্রায় ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ সিএমএসএমই খাতে। বাকি বিনিয়োগের প্রায় ৩৫ শতাংশ করপোরেট খাতে এবং ১৫-২০ শতাংশের কাছাকাছি রিটেইলে রয়েছে।
সিএমএসএমই খাতে আয়-ব্যয়ের অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর মূল লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা এ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে সামাজিকভাবেও আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের বিশেষায়িত সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত ২৫ বছরে এ খাতের উন্নয়নে আমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পেরেছি। এ সময়ে ২০ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমাদের ভূমিকা রয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা এমন জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যাচ্ছি, যারা আগে কখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় ছিল না। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতেও সহযোগিতা করছি। গত ২৫ বছরে আমাদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা অনেক উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র থেকে ছোট, ছোট থেকে মাঝারি ও মাঝারি থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। এ পথচলায় ব্র্যাক ব্যাংক তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।
আপনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কথা বলছিলেন। ব্র্যাক ব্যাংকের সামাজিক অবদান বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
ব্র্যাক ব্যাংক করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমকে যতটা অর্থবহ ও কার্যকর করতে পেরেছে, তেমন উদাহরণ খুব কম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং স্পন্সর ও পর্ষদ অনুমোদিত তহবিলের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ—চার ক্ষেত্রে কাজ করছি। শুধু গত দুই বছরেই আমাদের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আড়াই লাখের বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পেরেছি। স্বাস্থ্য খাতের একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। তৈরি পোশাক খাতে আমাদের যেসব অংশীদার রয়েছে, তাদের কারখানার কর্মীদের অনেকেই জীবনে কখনো চোখ পরীক্ষা করাননি। ভিশন স্প্রিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় আমরা দেখতে পাই, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মীর চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দরকার।
তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে হয়। এ কারণে তাদের চোখের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি চাপ পড়ে। আমরা তাদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী অনেককে বিনামূল্যে চশমা সরবরাহ করেছি। এতে কর্মীদের কাজের আগ্রহ ও দক্ষতা বেড়েছে। এছাড়া ‘ব্র্যাক লিম্ব’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি ও সরবরাহ করে অনেক মানুষকে সহায়তা করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। এসব কার্যক্রম প্রচার করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং আমাদের প্রত্যাশা, অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোরও যেন এ ধরনের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে আসে।
ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হিসেবে এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ খুবই ভালো করছে। বিকাশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বলতেন।
মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় এ মুহূর্তে বিকাশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির দুই-তিনটি বড় উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন হলে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগ শুধু বিকাশের মুনাফা বৃদ্ধিতেই সহায়ক হবে না; বরং বাংলাদেশের আর্থিক খাতে যেসব সেবার ঘাটতি রয়েছে, সে শূন্যস্থানও পূরণ করবে।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’কে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি কতটা কার্যকর হবে বলে মনে করেন?
এ উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা সফলভাবে চালু রয়েছে। নগদবিহীন সমাজ গড়ে তোলা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং মানুষের লেনদেন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। তবে সত্যি বলতে, ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক এখনো প্রত্যাশিত পরিসরে কিউআর কোডের ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে পারেনি। এজন্য কিছু ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উদ্যোগের দরকার ছিল। এরই মধ্যে আমরা সেসব সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছি। ফলে এখন হয়তো বড় পরিসরে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
তবে আমাদের সাবসিডিয়ারি ‘বিকাশ’ এরই মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি কিউআর কোড সরবরাহ করেছে। নিজেদের বন্ধ বা ক্লোজড সিস্টেমের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি সর্বজনীন ইকোসিস্টেমের সঙ্গেও যুক্ত হতে পেরেছে। সরকার ও আমরা চাই, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি যেন শুধু ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও টেকসই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এ খরচের ক্ষেত্রে কি সরকারের ভর্তুকি দেয়া উচিত?
আমি মনে করি না, শুধু ভর্তুকি দেয়াই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। সরকার কতটুকু ভর্তুকি দেবে? সরকারেরও আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই ভর্তুকি প্রত্যাশা করা যৌক্তিক নয়। এক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে লাভবান হবে বা যাদের কাছে তহবিলের প্রবাহ ঘটবে, তাদের সবারই এ ব্যয়ের একটি অংশ বহন করা উচিত।
থাইল্যান্ড ও ভারতেও অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। এ ব্যবস্থায় কিছু ব্যয় থাকবেই। তবে সেই ব্যয়ের বোঝা গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে ইকোসিস্টেমের অংশীদারদের মধ্যে যৌক্তিকভাবে ভাগ করে দেয়া উচিত। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহক ও বণিক বার্তার পাঠকদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
সবার জন্য শুভকামনা। তাদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন ব্র্যাক ব্যাংকের মতো ভালো ও আস্থাশীল ব্যাংকের পাশে থাকেন। সূচনালগ্ন থেকে যেভাবে তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে আসছেন এবং আমাদের ভালো উদ্যোগগুলোকে প্রশংসা করছেন, ভবিষ্যতেও যেন একইভাবে আমাদের সঙ্গে থাকেন। আমরা অনেক নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গ্রাহকদের জন্য আরো নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা আনব্যাংকড জনগোষ্ঠীর আরো বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি, যাতে ব্যাংকের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতিও উপকৃত হয়।