ফেনীতে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল গত বছরের রেকর্ড

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ফেনীতে এ পর্যন্ত ৩০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯১ জন

ফেনীতে মশাবাহিত ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে হামের প্রকোপ। চলতি বছরে এরই মধ্যে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০২৫ সালের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৫৯১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশই শিশু। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৯ হাম রোগী।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গতকালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ফেনীতে এ পর্যন্ত ৩০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯১ জন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের বড় অংশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ভর্তি আছেন ৫৯ জন। উপজেলা পর্যায়ে সোনাগাজীতে ১৩২ জন, দাগনভূঞায় ৫৬, ছাগলনাইয়ায় ১৮ এবং ফুলগাজী ও পরশুরামে দুজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ফেনী পৌর এলাকায় সন্দেহজনক ১ হাজার ৩৩০ রোগীর মধ্যে ২২ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সোনাগাজীতে আটজন, দাগনভূঞায় চারজন, ফেনী সদরে দুজন, ফুলগাজীতে দুজন এবং ছাগলনাইয়ায় একজনের দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেনীতে মোট ২০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছর ফেনী সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ১৯৮ জন। এছাড়া দাগনভূঞায় ৩৬, সোনাগাজীতে ৩০, ছাগলনাইয়ায় ২০, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

শহরে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোর কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরো বাড়ছে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের ওপর বাড়তি জোর দেয়া হচ্ছে।

আরও