কাস্টমসের অতিরিক্ত মূল্য দাবি

বেনাপোলে আটকে আছে কাপড়ের চালান

ভারত থেকে আমদানি করে আনা ৭০টি সিনথেটিক ফেব্রিকসের (থান কাপড়) চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আটকা রয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি করে আনা ৭০টি সিনথেটিক ফেব্রিকসের (থান কাপড়) চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আটকা রয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের মনগড়া শ্রেণীবিন্যাস করে দাম বাড়াতে চাইছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদস্বরূপ চালানগুলো খালাস নিতে চাইছেন না আমদানিকারকরা। এ সমস্যার কারণে এ জাতীয় পণ্য বৈধপথে না এসে অহরহ চোরাইপথে আসছে বলে দাবি আমদানিকারকদের।

থান কাপড় আমদানিকারক আলাউদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম, সোনামসজিদ ও পানগাঁও বন্দরে এ জাতীয় পণ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত দামেই শুল্কায়ন ও খালাস হচ্ছে। অথচ বেনাপোল কাস্টমস এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য আমদানিকারকদের ওপর চাপ দিচ্ছে। রাজস্ব বোর্ডের তালিকায় এসব পণ্যের কাস্টমস জেনেরিক নাম সিনথেটিক ফেব্রিকস হলে  বেনাপোলের কাস্টম কর্তৃপক্ষ এগুলোকে তাদের মনগড়া শ্রেণীবিন্যাস করে দাম বাড়াতে চাইছে, যা বাংলাদেশের আর কোনো কাস্টম হাউজে নেই। দাম বাড়ালে আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’ পাঁচ-ছয় বছর আগেও দেশের সব কাস্টম হাউজের সঙ্গে মিল রেখে বেনাপোল কাস্টম হাউজেও একই শ্রেণীবিন্যাস ও একই দামে পণ্য খালাস করতে দেয়া হতো বলে জানান তিনি।

অন্য এক আমদানিকারক মো. স্বপন বলেন, ‘আগে থান কাপড়ের সিনথেটিক ফেব্রিকস চোরাইপথে দেশে আসত। বর্তমানে আমদানিকারকরা বৈধপথে শুল্ক পরিশোধ করে এসব পণ্য আমদানি করছেন। বর্তমানে থান কাপড়ের ২০ টন পণ্য আমদানি হলে পণ্যের চালান পরীক্ষার সময় জোর করে ২০ কেজি ওজন বেশি উল্লেখ করে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। কেননা একজন আমদানিকারক কখনোই ২০ হাজার কেজি পণ্য আমদানি করে ২০ কেজি পণ্য বেশি আনবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিনথেটিক থান কাপড় আমদানির পর তাতে কোনো ডিমারকেশন না থাকলেও কাস্টম কর্তৃপক্ষ জোর করে এটিকে ওড়না ফেব্রিকস বলে শ্রেণীবিন্যাস করে মূল্য বাড়াতে চায় যা বিধিসম্মত নয়। সিনথেটিক ফেব্রিকসের কাস্টমস এইচএস কোড ৫৪০৭.৭২.০০ এবং যার মিনিমাম ভ্যালু ৩ ডলার। ওড়নারও এইচএস কোড ৫৪০৭.৭২.০০। ডিউটির কোনো তারতম্য নেই। বেনাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ থান কাপড়কে ওড়না ফেব্রিকস দেখিয়ে দাম ৪ ডলার করতে চাইছে, যা দেশের আর কোনো কাস্টম হাউজে নেই। সম্প্রতি বেনাপোল বন্দর দিয়ে এ জাতীয় পণ্য আমদানি হলেই জোর করে শ্রেণীবিন্যাস ও দাম বাড়ানো হচ্ছে। ফলে বেনাপোল কাস্টম হাউজে এখন পর্যন্ত ২৮০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আবদুল হাকিম বলেন, ‘আটকে থাকা পণ্যের বিষয়টি আমরা রাজস্ব বোর্ডকে জানিয়েছি। আমরা অ্যাসেসমেন্ট কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে থান কাপড়ের ১২টি চালান আটক করেছিলাম। গোয়েন্দাসহ আমাদের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পণ্যের চালানগুলো ভারতীয় ট্রাক থেকে বন্দরের শেডে আনলোড করা হয়। পরে পরীক্ষা সম্পন্ন করে রাজস্ব ফাঁকির কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তা সত্ত্বেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।’

আরও