খাগড়াছড়িতে জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলিতে হতাহতের খবর, নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ

শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দুপুরের দিকে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় শুক্রবার রাতে ‘ইউপিডিএফ ও জেএসএসের’ মধ্যে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের চার কর্মী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দুপুরের দিকে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জোড়া সিন্ধু পাড়া নামে এক দুর্গম এলাকায় হতাহতের ঘটনার খবর ছড়ালেও দীঘিনালা থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) রাতে নাড়াইছড়ি এলাকায় সাড়ে ৮টার দিকে গোলাগুলির ঘটনায় চারজন লোক মারা যাওয়ার খবর পাই বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে। তবে সেটা নির্ভরযোগ্য তথ্য না। কাজেই পুলিশ হিসেবে আমরা নাম-পরিচয় এবং মরদেহ না পেয়ে কেউ মারা গেছে, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কাজেই সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে আমরা বলেছি নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে না, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে শুনেছি চারজন লোক মারা গেছে।’

ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এলাকাটি দুর্গম, সেখানে যেতে হলে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। আর সেখানে বিজিবি, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প আছে। তারা যদি আমাদের জানাত ঘটনাস্থলে মরদেহ পড়ে আছে, তাহলে আমরা সেখানে যেতাম। যেহেতু তাদের থেকে বা স্থানীয় লোকজন থেকে এরকম কোনো তথ্য আমরা পাইনি সেজন্য আমরা সেখানে যাইনি।’

এদিকে চারজন নিহতের ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ইউপিডিএফের নামে ‘গুজব ও অপপ্রচার’ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি।

শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেছেন, ‘মিডিয়ায় প্রচারিত উক্ত গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কোনো তথ্য ইউপিডিএফের জানা নেই এবং ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ‘‘গণমুক্তি ফৌজ’’ বা ‘‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’’ নামে তার কোনো সামরিক শাখা থাকার প্রশ্ন একেবারে অবান্তর ও কাল্পনিক।’

ইউপিডিএফ কারো সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নয় এবং তার কোনো সদস্য কোনো যুদ্ধে নিহত হয়নি দাবি করে অংগ্য বলেন, ‘ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ও ভাইবোনছড়ায় ত্রিপুরা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এভাবে দুরভিসন্ধিমূলক মিথ্যা প্রচারে নেমেছে।’

আরও