বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা শ্রীপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দলীয় নেতাকর্মীরা মজুমদার বাড়িতে জড়ো হয়। বিভিন্ন মসজিদের মাইকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রচার হলে পুরো জেলায় শোক ছড়িয়ে পড়ে। ফেনী-১ আসনে নির্বাচন করে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও একবার বিরোধী দলীয় নেত্রী হন তিনি। আপসহীন নেত্রীর খ্যাতি পাওয়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফেনীবাসীর সর্বাধিক প্রচারিত ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা; গর্ব মোদের আলাদা’ এ শ্লোগানটিও আর শোনা যাবে না।
নিজ পৈত্রিক নিবাসে জনসাধারণের জন্য বেগম জিয়া নির্মাণ করেছেন মাদ্রাসা, মসজিদ স্কুল কলেজসহ বহু স্থাপনা। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ফুলগাজীসহ ফেনী জেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই সামীম হোসেন মজুমদার বলেন, বাড়িতে আসলে তিনি বড়দের কে যেমন শ্রদ্ধা করতেন তেমনি ছোটদের কে অনেক বেশি আদর করতেন।
চাচাতো ভাই জাহিদ হোসেন মজুমদার বলেন, খালেদা জিয়াকে হারিয়ে আমরা আজ শোকে মুহ্যমান। তিনি ছিলেন এ বাংলাদেশের একটা চাবি। তার চলে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি জাতি কখনো পোষাতে পারবে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির পাশেই দীঘির মাছ খুব পছন্দ করতেন বেগম জিয়া। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পরে হেলিকপ্টার যোগে ফেনীতে আসেন তিনি। তাকে বহন করা হেলিকপ্টারটিকে আধাঘণ্টা দাঁড় করিয়ে দিঘির মাছ নিয়ে ঢাকায় ফেরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও বাড়ির সঙ্গে মিশে আছে বেগম জিয়ার হাজারো স্মৃতি। বাড়ির পাশে পুকুর ঘাটে বসে গল্প করতেন ভাইদের সঙ্গে। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, তিনি শুধু আমাদের গর্ব নয় তিনি বাংলাদেশের বাতিঘর ছিলেন। তাকে হারিয়ে আজ পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ।