গাজীপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা ৩৮৩টি মামলা ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ডিএনএ, ভিসেরা, ফরেনসিকসহ বিভিন্ন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়াই এর মূল কারণ। ফলে এসব মামলার বাদী-বিবাদীরা নানামুখী হয়রানি ও ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার শিকার হচ্ছেন। আইন অনুযায়ী, মামলা রেকর্ড হওয়ার পরবর্তী সাতদিন অথবা ১২৫ দিনের মধ্যে পুলিশকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার বিচার কাজ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডিএনএসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার
প্রতিবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্টসহ নানা কারণে পুলিশ সময়মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় অনেক মামলার বিচার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তাতে করে মাসের পর মাস এসব মামলার বাদী ও বিবাদীরা নানাভাবে হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বারবার তারিখ নির্ধারণ করতে গিয়ে বিজ্ঞ আদালতেরও সময় নষ্ট হচ্ছে।
ঝুলে থাকা মামলার মধ্যে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানায় ৭৩টি, বাসন থানায় ৩১টি, কোনাবাড়ী থানায় ৩৯টি, কাশিমপুর থানায় ৩৫টি, গাছা থানায় ৫২টি, পুবাইল থানায় ২১টি, টঙ্গী পূর্ব থানায় ৯৫টি, টঙ্গী পশ্চিম থানায় ৩৭টি মামলা রয়েছে।
গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এবিএম আফফান বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট বা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সময়মতো না পাওয়াসহ নানা কারণে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়।
মূলতবি থাকা কয়েকটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। কিন্তু ডিএনএ, ভিসেরা ইত্যাদি প্রতিবেদন না পাওয়ায় তারা মামলার অভিযোগপত্র অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারছেন না।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের ডিএনএ পরীক্ষা হওয়ায় সিআইডি ল্যাবে অনেক লম্বা সিরিয়াল। তবু আমরা চেষ্টা করছি আইনের ধরাবাঁধা সময়ের মধ্যেই সঠিক এবং নিভুল তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে। বিভিন্ন প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহ করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।