পঞ্চগড়ে সাথি ফসল হিসেবে আবাদ হচ্ছে কফি

পঞ্চগড়ে দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল কফি চাষ। সাথি ফসল হিসেবে ছায়াযুক্ত স্থানে রোপণ করা গাছগুলোয় এখন ফুল আসতে শুরু করেছে।

পঞ্চগড়ে দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল কফি চাষ। সাথি ফসল হিসেবে ছায়াযুক্ত স্থানে রোপণ করা গাছগুলোয় এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। অনেক গাছে ধরেছে ফলও। তবে দেশে নতুন ফসল হওয়ায় বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। যদিও কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত পরিদর্শনসহ কফিচাষীকে সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। উৎপাদিত কফির ভালো দাম পেতেও কাজ করবেন তারা।

জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭ জন কৃষক দুই বছর আগে কফি চাষ শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছে চার থেকে পাঁচ কেজি কফি ফল পাওয়ার 

আশা করছেন তারা। সব ঠিক থাকলে চারাগুলোর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলে বিঘাপ্রতি ২ লাখ টাকা দাম পাওয়ার সম্ভাবনা কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষীরা জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় ধরেছেন তারা। তবে প্রত্যাশিত ফলন পেতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বাগানে পোকার আক্রমণ।

কৃষি অফিস সূত্র বলছে, কফি ও কাজু বাদাম গবেষণা উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে পাঁচজন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আটসহ মোট ৪১ জন চাষী সাত একর জমিতে কফি চাষ করেছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচ, তেঁতুলিয়া এবং আটোয়ারীতে এক একর করে জমিতে কফি চাষ হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলায় তিন ও আটোয়ারী উপজেলায় কফি চাষ করেছেন আরো তিন কৃষক। জেলার মোট ৪৭ কৃষকই সাথি ফসল হিসেবে কফি চাষ করেছেন। বেশির ভাগ চাষী সাথি ফসল হিসেবে সুপারির বাগানে ছায়াযুক্ত স্থানে কফি বাগান গড়ে তুলেছেন। এরই মধ্যে সদর উপজেলার চাষীদের বাগানে ফল আসতে শুরু করেছে। অচিরেই আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলার কফি গাছগুলোয়ও ফল আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের।

সদর উপজেলার পুরনো পঞ্চগড় এলাকার কফি চাষী মো. মুনাইম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক বিঘা জমিতে সুপারির বাগানে সাথি ফসল হিসেবে কফি চারা রোপণ করেছি। কৃষি অফিসের সহায়তায় চারা, সার, কীটনাশক পেয়েছি। সেচ বাবদ আমাকে এক বিঘা জমিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। বর্তমানে আমার বাগানে ফল আসা শুরু হয়েছে। চারাগুলোর বয়স দুই বছর হতেই এখন প্রতিটি চারায় ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ফল আসছে। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে আশা করি প্রতিটি গাছ থেকে চার-পাঁচ কেজি করে ফল পাব। প্রতি কেজি ফল ৪০০ টাকা করে বিক্রি করতে পারলে আমার ১২৫টি গাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার কফি বিক্রি করতে পারব।’

এদিকে কফি গাছে ফল ধরতে শুরু করায় চাষীরা আনন্দিত হলেও বাজারজাত নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এ ব্যাপারে কৃষি অফিসের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি এলাকার কফি চাষী আব্দুল হালিমের এক বিঘার বেশি জমিতে চাষ করা ১৩৫টি গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘রোপণের দুই বছরের মাথায় বেশির ভাগ গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। ফল তুলছি কিন্তু বাজারজাত কীভাবে করতে হবে জানি না। এজন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কামাল হোসেন সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাজারজাতে চাষীকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি কৃষক লাভবান হন তাহলে আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে কফি বাগানগুলো পরিদর্শন করে আমরা নিয়মিত কৃষককে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। তাছাড়া কফি চাষীদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়ে তদারকি করা হয়। যদি পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছগুলোকে রক্ষা করতে পারি তাহলে পাঁচ বছর পর ভালো ফল আসবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে ৬০ প্রজাতির কফি থাকলেও বাংলাদেশে চাষ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি কফি। এগুলো হচ্ছে অ্যারাবিকা ও রোবস্তা। পঞ্চগড়ের আবহাওয়া রোবস্তা কফি চাষের উপযোগী। ছায়াযুক্ত স্থান ছাড়া কফি চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ কফির চারার ওপর রোদ পড়লেই চারা নষ্ট হয়ে যায়। তবে পাঁচ বছর পর পুরোপুরি ফল আসা শুরু করলে চারাগুলো ততদিনে রোদ-সহনশীল হয়ে যায়।’

আরও