পোশাক খাতের উন্নয়নে বিজিএমইএ ও ওকাইবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সভায় চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হলো— ১. তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং কারখানা অধিগ্রহণ, ২. শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা, ৩. টেকসই শিল্পায়ন ও সবুজ উদ্যোগে যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ৪. উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়ন নিয়ে বিজিএমইএ ও বাংলাদেশে ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ওকাইব) মধ্যে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় যৌথ বিনিয়োগ, কারখানা অধিগ্রহণ, সবুজ প্রযুক্তি ও উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে গতকাল এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ, শাহ রাঈদ চৌধুরী, নাফিস-উদ-দৌলা ও রুমানা রশীদ অংশ নেন।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে সংগঠনটির সহসভাপতি অ্যান্ডি চ্যান, ক্লিফ রেন, লিসা লু, জোয়েল ওং, উপমহাসচিব জেসি ইউ এবং নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ঝাংসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হলো— ১. তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং কারখানা অধিগ্রহণ, ২. শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা, ৩. টেকসই শিল্পায়ন ও সবুজ উদ্যোগে যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ৪. উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি।

সভায় ওকাইবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কার্বন বাণিজ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নে পুরোনো জ্যাকোয়ার্ড মেশিনের বদলে আধুনিক মেশিন সরবরাহের একটি বিনিময় নীতির প্রস্তাবও দেন। তবে শুল্ক জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তারা বিজিএমইএর সহযোগিতা চান।

জবাবে বিজিএমইএর নেতারা জানান, এসব নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। তারা আরো জানান, দেশের উদ্যোক্তারাও সচল ও বন্ধ কারখানায় চীনা অংশীদারত্বে আগ্রহী। এ জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে কার্যকর একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।

বিজিএমইএর নেতারা বলেন, সংগঠনটি বর্তমানে পুনর্ব্যবহারভিত্তিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই শিল্পায়ন নিয়ে কাজ করছে। এ খাতে চীনা ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করলে দেশীয় পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাবে এবং উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্যের পোশাক ও টেকসই উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ওকাইবের এই সফর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও প্রযুক্তি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের পোশাক শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে সহায়তা করবে।

সভায় ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তা দেয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

আরও