হত্যা মামলায় কারাগারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাব্বির বিন শামসকে গণঅভ্যুত্থানের সময়কার হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন সুমন খাঁনের বাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬ কিশোরের মৃত্যুর ঘটনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ রোববার বিকাল ৩টার দিকে তাকে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ সোপর্দ করে সদর থানা পুলিশ। পরে শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

পুলিশ, আদালত ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়নের বঙ্গেরবাড়ী বাজার থেকে সাব্বির বিন শামস সুমনকে আটক করে থানা পুলিশ। পরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে। রাতেই ডিবি পুলিশ তাকে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের পাশের আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খাঁনের বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৬ ছয়জন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন সুমনসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় ২০২৫ সালের ২৭ মে মামলাটি করেন আরমান আরিফ নামে এক ব্যক্তি।

পাটগ্রাম থানার ওসি মো. নাজমুল হক জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনে কর্মরত সাবেক ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ মো. সাব্বির বিন শামস সুমনকে দহগ্রামের বঙ্গেরবাড়ী বাজারে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় আটক করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক পদেও কর্মরত ছিলেন।

এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বাংলাদেশী লাল পাসপোর্টসহ মোট ৭টি পাসপোর্ট বই, একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে অনুপ্রবেশ করার কথা স্বীকার করেছেন। অধিকতর তদন্তের জন্য তাকে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহম্মেদ বলেন, লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের সুমন খানের বাড়ী লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকালে লালমনিরহাট বিজ্ঞ আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাব্বির বিন শামস সুমন বণিক বার্তাকে বলেন, ২০২০ সালের আগস্ট মাসে আমি সিআরআই থেকে পদত্যাগ করেছি। ২০২১ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাই। প্রায় সাত মাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করার পর ওই বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনে ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ পদে পাঠানো হয়। আমি ২০২৩ সালে মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু এখনও সেই মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি। এছাড়া আর কোনো মামলা ছিল না।

সাব্বির বিন শামস সুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিচারক মো. আলাউদ্দীন রোববার সন্ধ্যায় জামিন শুনানি করেন। আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর সময় আমার মোয়াক্কেল লালমনিরহাটে ছিলেন না। বর্তমানে তিনি একজন বয়স্ক ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী। এসব বিষয় তুলে ধরে বিজ্ঞ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেছি। কিন্তু আমরা আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

লালমনিরহাট কোর্ট পুলিশের (জিআরও) সিএসআই মানিক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, বিচারক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস সুমনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা সেই আদেশ মোতাবেক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছি।

আরও