পটুয়াখালীতে আগাম শিম চাষে ভালো ফলন

বাজারে আগাম সবজি হিসেবে চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে এ শিম ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ‘রেইজড বেড’ পদ্ধতিতে ‘বারি-৪’ জাতের আগাম শিম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। তবে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট ও চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ায় ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

​কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে সার ও কীটনাশক কিনতে হয়েছে। এখনো চড়া দামে কৃষিসামগ্রী কিনতে হচ্ছে। ফলে ভালো ফলন পাওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা তাদের লাভ দেখতে পারছেন না।

​উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের চাষী আবদুস সালাম জানান, সরকারি কোনো অনুদান ছাড়াই তিনি ১২০ শতক জমিতে ৩৩টি বিট (বেড) তৈরি করে বারি-৪ জাতের শিম চাষ করেছেন। এ জাতটিতে চারা রোপণের ৫০ দিনের মধ্যে ফলন আসে এবং বছরজুড়েই ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতিদিন তার জমি থেকে গড়ে ৫০-৬০ কেজি শিম তোলা হচ্ছে, যা পাইকারি আড়তে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আগাম সবজি হিসেবে চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে এ শিম ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

​তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ৮০ হাজার টাকা খরচে উৎপাদিত এ শিম থেকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। তবে সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তার উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

সালাম সিকদার এমন সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সবজি চাষী আব্দুল কাদের সিকদার বলেন, ‘ছালাম সিকদার ২০-২৫ বছর ধরে শিম চাষ করেন। তার বিষমুক্ত শিম চাষ দেখে আমিও সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। তবে সারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় ঠিক সময়ে সার দিতে পারছি না। সার ও কীটনাশকও চড়া দামে কিনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।’

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষকদের সবজি চাষে নিয়মিত উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের রোগবালাই নির্মূলে ও সঠিক সার ব্যবস্থাপনায় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন বলেন, ‘রেইজড বেড পদ্ধতিতে আগাম শিম চাষে কৃষকরা ভালো ফলন এবং লাভ দুটোই পান। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।’

আরও