ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন ধরনের স্লোগানসহ অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
কুমিল্লা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে সারাদেশে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে কুমিল্লা জেলা পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারের প্রসঙ্গটি টেনে এনে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ কেবল অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এ চিত্র সারা বাংলাদেশের। কুমিল্লায়ও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। তারপরও নাকি পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যায়। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”। কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, সেটা আমরা আদৌ জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না পর্যন্ত মাথায় নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ এ কিশোর। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল।
অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।