পাহাড়ে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনো কিছু মৌলিক শর্ত বাস্তবায়ন বাকি রয়েছে। চুক্তির মূল দিকগুলো বাস্তবায়ন ও ভূমি সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে মন্তব্য করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি।
গতকাল রাঙ্গামাটি জেলা শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রেস্টহাউজ হলরুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় এ কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কমিটি অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল ও উপসচিব সামছুল হক।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, চুক্তির বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা পরিবীক্ষণ কমিটির দশম সভায় বলেন, ‘এ সভা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে যে যদি সব পক্ষ সম্মিলিতভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে, তাহলে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব। কমিটি বাস্তবায়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সুপারিশ দেবে। প্রয়োজনে সাব-কমিটি গঠন করে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
সভা শেষে কমিটির আহ্বায়ক ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বেশকিছু সমস্যা রয়েছে, যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সমস্যা আছে বলেই দীর্ঘ সময়ে চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। ভূমি কমিশনসহ অনেক বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ছোট ছোট যেসব বিষয় দ্রুত সমাধান করা যায়, তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ সরকারের সময়ে এটিই প্রথম সভা। শিগগিরই পরবর্তী সভা আহ্বান করা হবে।’