পাবনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ-গোলাগুলি, আহত অর্ধশতাধিক

বুধবার জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি হাফেজ ইকবাল হোসেনসহ দুজনকে মারধর করে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার লোকজন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়ে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায়ও চালানো হয়। সেখানে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি হাফেজ ইকবাল হোসেনসহ দুজনকে মারধর করে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার লোকজন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়ে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায়ও চালানো হয়। সেখানে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আবু তালেবের গাড়িসহ তারা ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ সমাবেশে আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান বলেন, ‘জনগণের সমর্থন হারিয়ে যারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা, তারাই গণতান্ত্রিক প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করতে সহিংস পথ বেছে নেয়। পাবনা জেলা জামায়াত কোনো উত্তেজনা, সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চায় না। আমরা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক নির্বাচনী পরিবেশে বিশ্বাস করি। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব। আগামী নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে এ হামলার প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা হামলা চালায়। আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। আমার গাড়িসহ শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। অন্তত ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন।’

তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘জামায়াতের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার বলেন, ‘জামায়াতের লোকজনই আমাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। তাদের হামলায় সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধা, তার ছেলে মনিরুল ইসলাম, যুবদলের সদস্য লালন মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আলীম হোসেন বাঁধনসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স. ম আব্দুন নূর বলেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ বা মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও