ফরিদপুরে সংঘটিত ৩ খুনের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের দশ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাধীন আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার জানান, রিকশাচালক কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়ি থেকে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তারা একসঙ্গে হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দেখতে পান আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুপু রাহেলা বেগমকে (৫৫) কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন।
কাবুল হোসেন বাধা দিতে গেলে তাকেও কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম মারা যান। এ ঘটনায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামি পালিয়ে গেলে কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তার বাড়ির অদূরে লিয়াকতের কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, আসামি কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।