চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘অপারেশন ক্লিন হার্টে’র মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকার, সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশ হয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে।

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধ দমনে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-ঝুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (হেড কোয়ার্টার) সরদার নুরুল আমিন ও অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মুহাম্মদ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকার, সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশ হয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। তবে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো পরিকল্পনা নেই।’

খুলনায় পুলিশ সদস্যরাই রাতে চলাচলে ভয় পাচ্ছেন—এমন পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। আমরা অপরাধীদের দমন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেব।’

সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পুলিশের সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুরুতেই ছিল। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিটটি গঠন করা হয়েছে এবং ১ অক্টোবর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ল্যাব প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।’

পাশাপাশি সিআইডি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করে আসছে, যেখানে ভিসেরাসহ বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা করা হয়।

বিচারপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতেও এসব পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সেগুলোর সনদ প্রয়োজন হয়। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব চাহিদা পূরণ করতে হবে।’

আরও