বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবি

আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সংহতি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

'কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বেআইনি কিছু করে বা শ্রমিককে বেতন না দেয়, সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের'।

বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ বুধবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৪টায় রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে 'মাছ মাংস চাল মজুরির স্বাধীনতা চাই' শীর্ষক এ সমাবেশ হয়।

এতে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, চিকিৎসক ড. হারুণ উর রশীদ, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, গবেষক কল্লোল মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি কমরেড মোশরেফা মিশু, জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম, ওএসকে গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইলের শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. ইয়াসিন এবং আ্যাপারেলস প্লাস ইকো লিমিটেডের শ্রমিক রাজু মিয়া।

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার যখন বলে, শ্রমিকের বেতন বকেয়া থাকলে তারা কি করবে, তা মালিক পক্ষের দেখার বিষয়- এটা চরম দায়িত্বহীনতার কথা। এ ধরনের কথা গত ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা শুনেছি। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বেআইনি কিছু করে বা শ্রমিককে বেতন না দেয়, সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। অথচ মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গতকাল শিল্প পুলিশ যেভাবে শ্রমিক ও ছাত্রনেতাদের ওপর হামলা করেছে- এর জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।

মাহা মির্জা বলেন, শ্রম ভবন থেকে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা আইনের ব্যবস্থা নেন। দেশের শ্রম আদালতের ওপর শ্রমিকের ভরসা নেই। তিন মাসের বকেয়া মজুরি এবং ঈদ বোনাস তাদের যৌক্তিক দাবি। কিন্তু শ্রমিকের প্রতি শ্রম ভবনও কোনো মানবিকতা না দেখিয়ে আলো বন্ধ করে রাখছে, বাথরুম ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।

কল্লোল মোস্তফা বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় ১২ জন মালিকের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু টিএনজেডের মালিক তো দেশেই নেই, যে দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কি অর্জন হবে? বরং মালিকের সম্পত্তি বাড়ি-গাড়ি বিক্রি করে শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। মালিকরাই মজুরি না দিয়ে শ্রমিককে আন্দোলন করতে উস্কানি দিচ্ছে। আগামীকালের মধ্যে অবশ্যই শ্রমিকের সব টাকা পরিশোধ করতে হবে, নইলে এ আন্দোলন আরো কঠোর হবে।

টিএনজেড গ্রুপের অ্যাপারেলস প্লাস ইকো লিমিটেডের শ্রমিক রাজু মিয়া বলেন, আমাদের বেতন দিতে হবে, এইটাই আমাদের স্বাধীনতা।

মোশাহিদা সুলতানা বলেন, যতদিন এখানে নির্বাচন পাওয়ার জন্য মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলগুলো ক্ষমতায় আসতে চাবে এবং পরে প্রতিশ্রুতি ভুলে যাবে, ততদিন এ ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকবে। আমরা এর আমূল পরিবর্তন চাই। শুধু বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস নয়, গতকাল আন্দোলনরত শ্রমিকের ওপর পুলিশের হামলায় আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসার খরচ ও তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কমরেড মোশরেফা মিশু বলেন, প্রয়োজনে কারখানা মালিকের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুরা বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠনের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল মালিককে রক্ষা করা। কিন্তু সংবিধান বলে, শ্রমিক তার অধিকার আদায়ে সমাবেশ-আন্দোলন করতে পারবে। পুলিশ হামলা করে শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। এর অর্থ হলো, যে শ্রমিক মালিককে টেকায়, তাকে কোনো সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে না।

আরও