খাবারে খাসির মাংস না থাকায় বিয়ে না করেই বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী বর

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খাসির মাংসের বিষয়টি আগে জানানো হলে অবশ্যই খাসির ব্যবস্থা করতাম। আমাকে আগে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই মিলে ছেলেটিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি

খাসির মাংস পরিবেশন না করায় বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে গেলেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার শেষ মুহূর্তে খাসির মাংস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বিয়ে করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। আত্মীয়-স্বজন ও কনেপক্ষের লোকজন অনেক বুঝিয়েও তাকে সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে গতকাল বিকালে এ ঘটনা ঘটে। জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ে উপলক্ষে সোমবার বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। সেখানে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। তবে ফুলের আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি।

পরে গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘খদরে’ খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবারে খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। তিনি খাসির মাংস ছাড়া খাবেন না এবং খাসি দেয়া না হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এসময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খাসির মাংসের বিষয়টি আগে জানানো হলে অবশ্যই খাসির ব্যবস্থা করতাম। আমাকে আগে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই মিলে ছেলেটিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো মা-বাবাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। খাসির মাংসের বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি খাসি মাংস ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।

আরও