টানা বৃষ্টি

নোয়াখালীতে বন্যার আশঙ্কা, বিচ্ছিন্ন পাঁচ উপজেলা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে নোয়াখালীতে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

দুদিনের টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে নোয়াখালীর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি, অফিস, আদালত ও বিদ্যালয়। জেলা সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াখালীতে দুই দিনের টানা বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কাঁচা ও আধাপাকা সড়কগুলো প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও আবার কোমর পানি জমে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

নোয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বন্যার কারণে আক্রান্ত পাঁচ উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম এবং আজ (৯ জুলাই) ও আগামীকালের (১০ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান এবং চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বাকি চার উপজেলার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলার সদর উপজেলার মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা সিয়াম বলেন, টানা বৃষ্টিতে পুরো জেলার বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হতে পারছে না। সারাদিনের বৃষ্টিতে শহরবাসী অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট ও বসতবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলো অধিকাংশই পানিতে ডুবে গেছে। অনেকের আবার বাড়িঘরেও পানি ঢুকেছে।

মাইজদীর গোদার মসজিদ এলাকার বাসিন্দা মাহাবুবুল হাসান চৌধুরী রাসেল জানান, গত বছর বন্যা হওয়ার পরও প্রশাসন তা থেকে কোনো শিক্ষা এই এক বছরে যদি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ড্রেনেজ সিস্টেমগুলো সচল করা যেত তাহলে এত অল্প সময়ের মধ্যে আবারো বন্যার মুখোমুখি হতে হতো না। গত বছর বন্যায় শহরের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বছর না ফিরতেই আবারো তারা ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বন্যা থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেকগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু উচ্ছেদ করে আসার পরপরই আবারো স্থানীয়রা সেগুলো দখলে নিয়ে যায়। এক একটি অবৈধ স্থাপনা একাধিকবার উচ্ছেদ করেও কার্যত কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয়রা সচেতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন যত উচ্ছেদ অভিযানই করুক এর সুফল আসবে না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, গতকাল দিনভর বিভিন্ন উপজেলায় খবর নিয়ে দেখেছি, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। শ্রেণীকক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়েই যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে, সেগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে নোয়াখালীতে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। এতে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা থাকবেন।

- বাসস

আরও