অস্ট্রিয়ান চিত্রশিল্পী গুস্তাভ ক্লিমট। সাম্প্রতিক কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের একজন হয়ে উঠেছেন। নিলামে তার আঁকা ছবিগুলো বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড দামে। তার বিখ্যাত প্রতিকৃতিগুলোর পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন অবকাশে আঁকা আটারসি হ্রদের বিচিত্র নকশায় সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক দৃশ্যও দর্শকের মন কেড়েছে। ক্রেতা ও সংগ্রাহকরা কিনে নিচ্ছেন দামের চিন্তা না করে। সর্বোচ্চ দাম পাওয়া তার পাঁচটি চিত্রকর্ম নিয়ে আজকের আয়োজন—
পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডেরার (১৯১৪-১৬): ১৯১৪-১৬ সালের মধ্যে আঁকা পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডেরার ক্লিমটের পরিণত বয়সের প্রতিকৃতি আঁকার শৈলীর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সদবি’জের নিলামে ছবিটি বিক্রি হয়। এর আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ কোটি ডলার। নিলামে টেলিফোনে অংশ নেয়া দুই দরদাতার মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার ফিসহ ছবিটির বিক্রিমূল্য দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে।
লেডি উইদ আ ফ্যান (১৯১৭-১৮): ১৯১৮ সালে মৃত্যুর আগে ক্লিমট কাজ করছিলেন একটি প্রতিকৃতি নিয়ে। লেডি উইদ আ ফ্যান নামে সেটি আজ পরিচিত। মৃত্যুর সময় ছবিটি ভিয়েনায় তার স্টুডিওর ইজেলে রাখা ছিল। ২০২৩ সালের জুনে লন্ডনের সদবি’জে নিলামে তোলা হয় ছবিটি। নিলামে ছবিটির দাম ওঠে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ক্রেতার অতিরিক্ত ফি যুক্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত বিক্রিমূল্য দাঁড়ায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে।
পোর্ট্রেট অব অ্যাডেলে ব্লখ-বাউয়ের টু (১৯১২): পোর্ট্রেট অব অ্যাডেলে ব্লখ-বাউয়ের টু তেলরঙে আঁকা একটি প্রতিকৃতি। এতে চিত্রিত হয়েছেন ভিয়েনার অভিজাত সমাজের পরিচিত মুখ অ্যাডেলে ব্লখ-বাউয়ের। তিনি ছিলেন শিল্পীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক এবং একমাত্র ব্যক্তি, যার দুটি প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন ক্লিমট। ২০০৬ সালের ৮ নভেম্বর নিউইয়র্কের ক্রিস্টি’জের নিলামে ছবিটি বিক্রি হয়। বিক্রিমূল্য ছিল ৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। ছবিটি কিনেছিলেন অপরাহ উইনফ্রে। ২০১৬ সালে ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রিমূল্য ছিল ১৫ কোটি ডলার।
পোর্ট্রেট অব অ্যাডেলে ব্লখ-বাউয়ের ওয়ান (১৯০৭): অ্যাডেলের এ ছবি তার দ্বিতীয় ছবির তুলনায় ভিন্ন। সোনালি রঙের আভায় অ্যাডেলে এখানে আড়ম্বরের সঙ্গে উপস্থিত। ২০০৬ সালে রোনাল্ড এস লডার নিউইয়র্কের নুয়া গ্যালারির জন্য চিত্রকর্মটি ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারে কিনে নেন। তখন থেকে জাদুঘরটিতে স্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
বার্চ ফরেস্ট (১৯০৩): আটারসি হ্রদের তীরে লিৎসলবার্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কাটানোর সময়ই প্রকৃতির সঙ্গে শিল্পীর গভীর সংযোগ গড়ে ওঠে। বার্চ ফরেস্ট (বুখেনভাল্ড) চিত্রকর্মে তিনি নিভৃত একটি বনভূমিকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। ২০০৬ সালের নভেম্বরে ক্রিস্টি’জের নিলামে ছবিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ২-৩ কোটি ডলার। এটি বিক্রি হয় ৪ কোটি ৩০ হাজার ডলারে। ২০২২ সালে পল জি অ্যালেনের শিল্পসংগ্রহের অংশ হিসেবে ছবিটি আবারো ক্রিস্টি’জে নিলামে তোলা হয়। এবার বিক্রিমূল্য দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে।