বিখ্যাত মার্কিন শিল্পী জঁ-মিশেল বাসকিয়ার পারিবারিক প্রতিকৃতি চিত্রকর্ম ‘বেবি বুম’ আগামী মে মাসে ক্রিস্টিজে’র নিলামে উঠবে। নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি’জ বলছে, এ ছবির দাম ২-৩ কোটি ডলার হতে পারে। চিত্রকর্মটি ১৯৮২ সালে আঁকা হয়।
‘বেবি বুম’ চিত্রকর্মটি জঁ-মিশেল বাসকিয়ার বাবা জেরার্ড ও মা মাতিলদাকে নিয়ে আঁকা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চিত্রকর্মটির নাম বিশ্বযুদ্ধের পর জন্মহার বাড়ার দিকে ইঙ্গিত দেয়। কাঠের ফ্রেমের ওপর আঁকা এ চিত্রকর্ম ১৯৮২ সালে নিউইয়র্কের ফান গ্যালারিতে বাসকিয়ার একক প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আনা হয়। পরে এটি ব্রুকলিন জাদুঘর (২০০৫), বেইলার ফাউন্ডেশন (২০১০) ও লুই ভিতোঁ ফাউন্ডেশনের (২০১৮-১৯) প্রদর্শনীতে দেখানো হয়।
এর আগে ‘বেবি বুম’ চিত্রকর্মটি শিল্প সংগ্রাহক পিটার ব্রান্টের সংগ্রহে ছিল। এটি তিনি ২০০১ সালে এক নিলামে ১০ লাখ ডলারে কেনেন। ২০১৭ সালে লেভি গরভি গ্যালারি এটি ৩ কোটি ডলারে বিক্রির জন্য তোলে। ২০১৯ সালে ব্রান্ট ফাউন্ডেশনে এক প্রদর্শনীতে এটি অনেকের নজর কাড়ে।
অন্যদিকে আলবের্তো জিয়াকোমেত্তির ভাস্কর্য ‘লে নেজ’ নিয়ে সংগীত প্রযোজক ডেভিড গেফেন ও ক্রিপ্টো ব্যবসায়ী জাস্টিন সানের মধ্যে আইনি ঝামেলা চলছে। ২০২১ সালে সথবি’জ নিলামে জাস্টিন সান এটি ৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে কিনেছিলেন।
জাস্টিন সানের অভিযোগ, তার শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সিডনি শিওং জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভাস্কর্যটি ডেভিড গেফেনের কাছে বিক্রি করেন। ডেভিড গেফেন এর বিনিময়ে দুটি চিত্রকর্ম (যেগুলোর মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার) ও ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নগদ অর্থ দেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাস্টিন সান মামলা করেন। ১৮ এপ্রিল ডেভিড গেফেন পাল্টা মামলা করে সানের দাবিকে ‘ভুয়া’ দাবি করেন। গেফেনের আইনজীবী টিবর নাগি আর্টনেটকে বলেন, ‘এটা জাস্টিন সানের প্রচারণার একটি চাল।’ তবে সানের আইনজীবী উইলিয়াম শ্যারন বলেন, ‘সিডনি শিওং চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি চীনে আটক আছেন।’
ডেভিড গেফেন তার মামলায় বলেন, ‘২০২২ সালে ক্রিপ্টো বাজারে ধস আসে। সে সময় জাস্টিন সানের প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর পরই তিনি ভাস্কর্যটি বিক্রি করতে চান।’ এছাড়া সানের বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা মুছে ফেলা ও তার এনএফটি প্লাটফর্মের ক্ষমতা বাড়িয়ে বলার অভিযোগ আছে।
গত বছর জাস্টিন সান সথবি’জে মৌরিজিও কাতেলানের ‘দ্য কমেডিয়ান’ (দেয়ালে টেপ দিয়ে আটকানো কলা) ৬২ লাখ ডলারে কিনেছিলেন। সেই মামলা এখনো চলমান।